স্বপ্ন আমরা কেন ভুলে যাই, কেনই বা মনে রাখি?

|

গত রাতে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটা এখন, এই ভর দুপুরেও পরিষ্কারভাবে মনে আছে? মজার ব্যাপার হলো, সবার কিন্তু এমন স্বপ্ন মনে থাকে না। আর স্বপ্ন দেখার সঙ্গে কারো ঘুম ভালো হচ্ছে না খারাপ, সেটাও সবসময় জড়িত থাকে না। হয়তো আপনি ভাবছেন, আজ যে স্বপ্নটা আপনি দেখেছেন, সেটার পেছনে ঘুমানোর আগের কোনো ঘটনা জড়িয়ে আছে। আসলে ব্যাপারটি যে এমন হতেই হবে তা নয়। আরও নানা কারণে মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন মনে রাখে বা ভুলে যায়।

র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট এবং ঘুমের সংশ্লিষ্টতাঃ আমরা স্বপ্ন অনেকেই দেখে থাকলেও কেন এমন স্বপ্ন দেখি সেটার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে জানেন না কেউ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের মানসিক অবস্থাকে সঠিক রাখার জন্য, মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য স্বপ্ন দেখে থাকি আমরা। তাদের মতে, র‍্যাপিড আই মুভমেন্টের সময়েই স্বপ্ন দেখে মানুষ।

আর এই অবস্থায় একজন মানুষ তার ঘুমের শতকরা ২০ শতাংশ সময় কাটান। যদি কেউ তার স্বপ্নের কথা মনে রাখতে পারেন, সেটার জন্য এই আরএইএম চক্রকে দায়ী করা হয়। সাধারণত মানুষ তার ঘুমের দ্বিতীয় ভাগে স্বপ্ন দেখে। এই আরইএম সাইকেল শেষ হওয়ার আগেই যদি কোন ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন তাহলে তার স্বপ্ন মনে রাখার সম্ভাবনা থাকে। একজন ব্যক্তি মোট ৭ ঘণ্টা ঘুমালে দেড় ঘণ্টার মতো স্বপ্ন দেখেন। আর সেই দেড় ঘণ্টার শেষ দশ মিনিট মনে থাকাটা বেশ স্বাভাবিক।

ঘুমের ওপরে মানসিক অবস্থা ও ব্যক্তিত্বের প্রভাবঃ গবেষকেরা বারবার বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তির ঘুম ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে তার ওপরে স্বপ্ন নির্ভর করে না। বরং, সেই ব্যক্তি কোনো ওষুধ সেবন করছেন কিনা, তার মানসিক অবস্থা কেমন এখন, নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্ব- ইত্যাদির ওপরে স্বপ্ন মনে রাখা এবং না রাখার ব্যাপারটি নির্ভর করে।

আপনি যদি মানসিক চাপে থাকেন বা উদ্বিগ্নতায় ভোগেন, তাহলে নিয়মিত স্বপ্ন দেখা এবং স্বপ্ন মনে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে ওষুধের প্রভাবেও এমনটা হতে পারে। এসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ সেবন করতে পারেন।
ব্যক্তিত্ব, বয়স ও লিঙ্গও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে, সৃজনশীল মানুষদের এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বপ্ন দেখতে দেখা যায়।

স্বপ্ন আরও ভালোভাবে মনে রাখার উপায় কী?
হতেই পারে যে, আপনি স্বপ্নকে মনে রাখতে চান। স্বপ্নকে মনে রাখার সবচেয়ে ভালো সময় হলো ঘুম থেকে ওঠার পরবর্তী ৯০ সেকেন্ড। এই সময় একটু আগে দেখা স্বপ্ন নিয়ে ভাবলে সেটা সবসময় মনে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। এরপর কয়েকবার সেটা নিয়ে ভাবুন, স্বপ্নের অনুভূতিগুলো আবার মনে করার চেষ্টা করুন এবং চারপাশের কাউকে স্বপ্নের ব্যাপারে বলুন। নাহলে ধীরে ধীরে সেটি আপনার মন থেকে হারিয়ে যেতে পারে।

স্বপ্ন মনে রাখার ক্ষেত্রে ভিটামিন বি৬ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট এবং এই উপাদান আছে এমন খাবার, এই যেমন- মাছ, দুধ, কলা, পালং শাক ইত্যাদি খাবার খেতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা স্বপ্নকে ভালোভাবে মনে রাখার জন্য।

আর হ্যাঁ, যদি এর উল্টোটা হয়, যদি আপনি স্বপ্ন দেখতে এবং স্বপ্ন মনে রাখতে না চান, তাহলে উপরের যে ব্যাপারগুলো স্বপ্ন মনে রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।

এগুলোর মধ্যে মানসিক চাপ এবং উদ্বিগ্নতা তো রয়েছেই, আছে অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার মতো ব্যাপারগুলোও। এছাড়া, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এমন খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করুন যেটি আপনাকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখবে, মানসিকভাবেও স্থিতিশীল করে তুলবে।








Leave a reply