গ্লোরিয়া জিন্সে চাকরি পেলেন সেই শাহনাজ

|

আন্তর্জাতিক কফি ফ্রাঞ্চাইজি ‘গ্লোরিয়া জিন্স কফিজ বাংলাদেশে’ চাকরি পেয়েছেন স্কুটি হারানোর পর আলোচিত সেই শাহনাজ আক্তার। ইতোমধ্যে শাহনাজের হাতে পৌঁছে গেছে তার নিয়োগপত্র। এই প্রতিষ্ঠানে তার কাজ হবে শুধু খাবার ডেলিভারি দেওয়া। তার নিয়োগের বিষয়টি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছেন গ্লোরিয়া জিন্স কফিজ বাংলাদেশের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ জহিরুল ইসলাম রাসেল এবং শাহনাজ নিজেই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গ্লোরিয়া জিন্স কফিজের ফ্রাঞ্চাইজি আছে নাভানা ফুডসের কাছে।

২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি চালানোর বাহানা করে উবারের বাইকার শাহনাজ আক্তার পুতুলের স্কুটি ছিনতাই করেন জনি নামের এক দুর্বৃত্ত। সেদিন বিকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিন রাতেই শাহনাজ বাদী হয়ে স্কুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনিকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। পরিবারের আয়ের একমাত্র সম্বল স্কুটি হারিয়ে প্রায় দিশেহারা অবস্থা হয়েছিল শাহনাজের। তার কান্নারত ছবি সেদিন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে। মামলা গ্রহণের পর পরদিন ভোরে নারায়ণগঞ্জ থেকে শাহনাজের স্কুটি উদ্ধার করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা। ছিনতাই হওয়া স্কুটিটি ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শাহনাজ আক্তার। ওড়না দিয়ে মুছতে শুরু করেন বাইকটি। বাইকটি উদ্ধার করে দেওয়ায় তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। উদ্ধার করা বাইকটি শাহনাজের হাতে তুলে দেন তেজগাঁও বিভাগের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। উপহার হিসেবে তেজগাঁও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

স্কুটি চালিয়ে পরিবারের হাল ধরা শাহনাজ করোনার থাবায় কর্মহীন হয়ে পড়েন। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্নজনের দেওয়া সাহায্য নিয়েই তার দিন কেটেছে। তাছাড়া তিনি শ্রম দিয়েছেন অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ সরবরাহে। শাহনাজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার এই চাকরির পেছনে আছে দুজন ব্যক্তির অবদান। একজন নাভানা গ্রুপের কর্মকর্তা এবং অপরজন একজন সাংবাদিক। তিনি সবার কাছে দোয়া চান এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

শাহনাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সহযোগিতা না পেলে এতটা সম্মান অর্জন করতে পারতাম না। আমি মনে করি, আপনাদের সাহায্যেই আজ আমার রিজিকের ব্যবস্থা হয়েছে। করোনার মধ্যে আমি বসে থাকিনি। যদিও রাইড শেয়ারিং করতে পারিনি, অনলাইনের কিছু পরিচিত আপুরা কাপড়ের ব্যবসা করতেন, তাদের পণ্য ডেলিভারির কাজ করেছি। অনেক সংস্থার ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ করেছি। সেখান থেকে কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা হয়েছিল। পাশপাশি আমি কিছু সাংবাদিক ভাইদের বলেছিলাম, যাতে আমার জন্য একটু সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা হয়। তারাও নিজে থেকে যতটুকু পেরেছেন আমাকে সাহায্য করেছেন। এভাবেই করোনার সময়ে চলেছি। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের আগে যিনি ডিসি ছিলেন, তিনিও আমার জন্য সাহায্য পাঠিয়েছিলেন।’

নতুন চাকরি প্রসঙ্গে শাহনাজ বলেন, ‘আমি আগামী ১ অক্টোবর থেকে জয়েন করতে চাচ্ছিলাম। আপাতত আমি একটু অসুস্থ , সিজনাল জ্বর বলেছেন ডাক্তার। আমি সেটা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা বলেছেন – সুস্থ হয়ে জয়েন করতে। এখানে আমার কাজ হচ্ছে খাবার ডেলিভারি দেওয়া। গুলশান এলাকায় যেগুলো অর্ডার হবে, সেই খাবারগুলো পৌঁছে দেওয়া আমার কাজ। এছাড়া বেতনের বিষয়ে বলেছে— ফিক্সড বেতন আছে মাসে, তার সঙ্গে আছে ডেলিভারির ওপর কমিশন। নাভানা থেকে আমাকে বলেছে— অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী আপনি যেটা পাবেন, সেটা আছেই ফিক্সড, সেটা ছাড়া বাকিটা আমরা দেখবো।’








Leave a reply