ইতিহাসের ঘৃণ্য অধ্যায় ‘মানব চিড়িয়াখানা’

|

আমরা সাধারণত চিড়িয়াখানায় যাই জীবজন্তু, পশু-পাখি দেখার জন্য। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটা সময় এমন ছিলো মানুষ মানুষ দেখতে চিড়িয়াখানায় যেতো। যেখানে খাচার ভেতর পশু-পাখি, জীব-জন্তু নয় জলজ্যান্ত রক্তমাংসের মানুষ থাকতো! অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি মানুষ একসময় টিকেট কেটে খাঁচার ভেতরে থাকা মানুষদের দেখতে আসতো।


পৃথিবীর নানা দেশে মানুষের এই চিড়িয়াখানা বছরের পর বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়ে আসছিলো। বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে এই প্রদর্শনী ইউরোপের নানা দেশে চালু ছিলো। খাঁচায় থাকা মানুষগুলা ছিলো মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের ও কিছু আফ্রিকার কালো চামড়ার মানুষ। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় এই খাঁচাতেই কাটতো তাদের দৈনন্দিন জীবন। সদ্যভূমিষ্ট শিশু থেকে শুরু করে স্ত্রী-পুরুষ, বৃদ্ধ-তরুণ-যুবা নির্বিশেষে প্রত্যেককেই প্রদানের জন্য রাখা হতো।


রাজা-বাদশা থেকে ধনী উচ্চবিত্ত সমাজের কাছে এই প্রদর্শনীটা ছিলো চিড়িয়াখানা হিসাবে বিবেচিত। আফ্রিকার কালো মানুষগুলা যেনো ছিলো একেকটা ভীনগ্রহের অপরিচিত কোন এক প্রজাতির প্রাণী। ঠিক এমন উচ্চবিত্ত মনোভাব নিয়ে তারা এই চিড়িয়াখানা প্রদর্শন করতে যেতো।

এই প্রদর্শনী প্রথম শুরু করেন রাজা কিং লিওপল্ড টু, ১৮০৯ সালে ব্রাসেলস শহরে। ২৬৭ জনকে নিয়ে একটি চিড়িয়াখানা শুরু করেন। এক শীতে ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে এই চিড়িয়াখানাতে সাতজন মারা যাওয়ার পরও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বন্ধ তো হয়ইনি বরং আস্তে আস্তে তা ছড়িয়ে যায় ব্রাসেলস থেকে প্যারিস, আসলো ও লন্ডনের মত সভ্যতার আঁতুরঘর হিসাবে চিহ্নিত শহরগুলাতে।


আরো আশ্চর্যজনক তথ্য হলো ওয়ার্ল্ড ফেয়ারের সময় বেলজিয়ামে এই চিড়িয়াখানার প্রদর্শিত হয়। ফিলিপিন্স, কাঙ্গো-সহ বিভিন্ন দেশের অধিবাসী বাসিন্দাদের এনে রাখা হয়েছিলো। তখনও আমোদের জন্য এই বন্দি বাসিন্দাদের দেখতে আসতো শতশত মানুষ।
১৯৫৮ সালের পর অবশ্য আর এই চিড়িয়াখানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে ইতিহাসের পাতায় এখনও রয়ে গেছে এই ঘৃণ্য প্রথার নিকৃষ্ট স্মৃতি।








Leave a reply