গুজব চিহ্নিত করে মানুষকে সচেতন করছে বিডি ফ্যাক্টচেক

|

সারা বিশ্ব এখন অনলাইনে অভ্যস্ততা লাভ করেছে। অনলাইনের বিভিন্ন পোর্টাল বা ওয়েবসাইট থেকে হাজারো সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিদিন। এই বিপুল তথ্যসম্ভারে অনেক সময়েই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অথবা ভুলে প্রকাশিত হচ্ছে ভুয়া অনেক সংবাদ। বিশেষ করে করোনা মহামারি বিশ্বে হানা দেওয়ার পর করোনা নিয়েও শুরু হয় নানাবিধ গুজব ছড়ানোর হিড়িক। এমন সময়ে বাংলাদেশে বিডি ফ্যাক্টচেক নামের একটি ওয়েবসাইট এগিয়ে আসে এই সমস্ত ভুয়া নিউজ শনাক্ত করতে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এ সংক্রান্ত গুজব প্রতিরোধে যখন চূড়ান্ত গুরুত্বারোপ করছিলো, তখন বাংলাদেশে ভুয়া খবর ও গুজব চিহ্নিত করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছে বিডি ফ্যাক্টচেক।

দেশের প্রথম ফ্যাক্ট চেকিং এই সংস্থা গত ১০ মাসে করোনা সংক্রান্ত দেড় শতাধিক গুজব ও ভুয়া তথ্য শনাক্ত করেছে। এর বেশিরভাগ ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়ালেও গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ ছড়িয়েছে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও। যেমন করোনা নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া বক্তব্য, চীনে আড়াই কোটি মানুষের করোনার কারণে গায়েব হয়ে যাওয়ার বিভ্রান্তিকর খবর, করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি বলে জাপানি বিজ্ঞানীর ভুয়া বক্তব্য ইত্যাদি মূলধারায় বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২০ সালে ৩০০ টির বেশি গুজব চিহ্নিত করেছে বিডি ফ্যাক্টচেক। এছাড়া মিডিয়া লিটারেসি বৃদ্ধিতে নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

গুজবের বিরুদ্ধে নিরন্তর এই যুদ্ধের শুরু ২০১৭ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম এই ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা। সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির জানান, প্রথমে একটি ফেসবুক পেজ হিসেবে শুরু করেন তারা। এরপর মানুষের আগ্রহ দেখে ওয়েবসাইট করা এবং বর্তমানে এটি একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, যাদের কাজ হচ্ছে গুজব চিহ্নিত করা, সেগুলো মানুষকে জানানো এবং সাধারণের মিডিয়া লিটারেসি বৃদ্ধিতে নানান কর্মসূচি বাস্তাবায়ন করা।

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ৭০ হাজারের বেশি ফলোয়ার রয়েছেন, যারা প্রতিদিন সেখানে কোনো না কোনো গুজব সম্পর্কে জানতে পারেন। এছাড়া ওয়েবসাইট www.bdfactcheck.com-এ নিয়মিত প্রকাশিত হয় বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক প্রতিবেদন।

বিডি ফ্যাক্টচেক এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির বলেন, আমাদের সার্বক্ষণিক যুদ্ধ মিসইনফরমেশনের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যম যেখানেই আমরা সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কিছু দেখি যাচাইবাছাই শেষে তা প্রমাণসহ তুলে ধরি। আমাদের কাজ হলো ফেইক নিউজ ও গুজবের ভয়াবহ পরিণতি থেকে সমাজকে রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, “আমরা সব সময় দল-মত-গোষ্ঠি ইত্যাদির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সব সময় সফল হতে পেরেছি কিনা তা আমাদের সচেতন পাঠকরাই বলতে পারবেন। তবে আমাদের এই নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা সর্বদা থাকবে।”

এছাড়া সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা এমআরডিআই, সুইডেন ভিত্তিক ফয়ো মিডিয়া ইনস্টিউট ইত্যাদি সংস্থার সাথে যৌথভাবে মিসইনফরমেশন বিষয়ক সচেতনতায় একাধিক ক্যাম্পেইন চালিয়েছে বিডি ফ্যাক্টচেক। তরুণ সাংবাদিকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সামনে আরও প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।








Leave a reply