সৌরভের কাছে ৩ দিন কোয়ারেন্টিনের দাবি ইংলিশ-অজি ক্রিকেটারদের

|

কোয়ারেন্টিন মেয়াদ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল হওয়ার মুখে। চলতি করোনা পরিস্থিতির মাঝে দুবাইয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আইপিএলের আসর। এখানেও সমস্যা সৃষ্টি করেছে কোয়ারেন্টিন মেয়াদ। এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা খেলছেন ওয়ানডে সিরিজ। বুধবার সিরিজের শেষ ওয়ানডে। তার পরই তারা চলে যাবেন আইপিএল খেলতে। নিয়মানুসারে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হলেও তারা দাবি জানিয়েছে এর মেয়াদ কমানোর।

ম্যাঞ্চেস্টার থেকে দুবাইয়ের বিমানে উঠবেন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ২১ জন ক্রিকেটার। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর তারা দুবাই পৌঁছবেন। আইপিএল শুরু হচ্ছে ১৯ তারিখ শনিবার। ৬ দিন কোয়রান্টিনে থাকতে হলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তারা আইপিএলে অংশ নিতে পারবেন। আর এখানেই সমস্যায় পড়ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে দেশের ক্রিকেটাররা বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীর কাছে কোয়ারেন্টিন মেয়াদ কমানোর আবেদন জানিয়েছেন।

ক্রিকেটারদের দাবি, ৩ দিন কোয়ারেন্টিনের। এই মুহূর্তে সৌরভ গাঙ্গুলী দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। আইপিএল আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বোর্ড প্রেসিডেন্টের কাছে এই মর্মে অনুরোধ এসেছে। চিঠি একজন লিখলেও আইপিএলে অংশগ্রহণ করা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ক্রিকেটাররা মনে করছে, তারা ইংল্যান্ডে জৈব সুরক্ষা বলয়েই আছে। সেই বলয় থেকে তারা দুবাইয়ের বলয়ে প্রবেশ করবে। সুতরাং ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন এখন অপ্রয়োজনীয়।’

অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের প্রথম দিকে না পেলে সব দলেরই সমস্যা। ব্যতিক্রম একমাত্র কলকাতা নাইট রাইডার্স। কারণ, কেকেআরের প্রথম ম্যাচ ২৩ তারিখ। টম ব্যান্টন, ইয়ন মর্গ্যান ও প্যাট কামিন্সরা ৬ দিনও কোয়রান্টিনে থাকলেও সেই ম্যাচে খেলতে সমস্যা হবে না। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা দাবি করেছেন, তারা দেশ থেকে বারবার করোনা পরীক্ষায় পাস করেই বিমানে উঠবেন। সুতরাং দুবাই গিয়ে বাড়তি দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনের মানে হয় না।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল (ইংরেজি: Australia national cricket team) অস্ট্রেলিয়ার পুরুষদের জাতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে পরিচিত। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সাথে যুগ্মভাবে বিশ্বের প্রাচীনতম দল হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। ১৮৭৭ সালে দলটি সর্বপ্রথম টেস্ট ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়।[২] এছাড়াও, দলটি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে থাকে। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে[৩] এবং ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে।[৪] উভয় খেলাতেই তারা জয়লাভ করে। শেফিল্ড শীল্ড, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া একদিনের সিরিজ এবং বিগ ব্যাশ লীগ – ঘরোয়া প্রতিযোগিতা থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করে থাকে।

১ জুন,২০১৯ তারিখ পর্যন্ত দলটি ৮২০টি টেস্ট খেলায় অংশ নেয়। তন্মধ্যে তাদের জয় ৩৮৬, পরাজয় ২২২, ড্র ২১০ এবং টাই ২।[৫] টেস্ট ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলটি ৭৪ মাস পর্যন্ত রেকর্ড সময়ে শীর্ষস্থানে ছিল।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলটি ৯৩৩ খেলায় অংশগ্রহণ করে ৫৬৭ জয়, ৩২৩ পরাজয়, ৯ টাই এবং ৩৪ খেলায় ফলাফলবিহীন ছিল।[৬] আইসিসি ওডিআই চ্যাম্পিয়নশীপ প্রবর্তনের পর ২০০৭ সালে ৪৮ দিন ব্যতীত বাকী দিনগুলোয় শীর্ষস্থান ধরে রাখে।

২০০৬ ও ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল দুইবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে। একমাত্র দল হিসেবে তারা পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়। দলটি এ পর্যন্ত টুযেন্টি২০ আন্তর্জাতিকে ৪৯টি খেলায় অংশগ্রহণ করেছে।[৭]

১ জুন, ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত আইসিসি প্রণীত র‌্যাঙ্কিংয়ে দলটি টেস্টে ৫ম, ওডিআইয়ে ৫ম এবং টি২০আইয়ে ৪র্থ স্থানে রয়েছে।[৮]








Leave a reply