লা লিগায় মেসির ‘শেষের শুরু’

|

এই মৌসুমে তাকে পাওয়ার কথাও অনেকে ভাবেনি। অনেক দিনের জমানো ক্ষোভ এতটা ওজনদার হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বুরোফ্যাক্সের বার্তায় বলে দেন চলে যাচ্ছি। টানা দশ দিন ধরে চলে নানা যুক্তিতর্ক। একদিকে বার্সা, অন্যদিকে মেসি। শুধু বার্সা বললেও ভুল হবে, খোদ লা লিগাও নেমে পড়ে মাঠে, কীভাবে লিওনেল মেসিকে আটকানো যায়, খুঁজতে থাকে সেই উপায়। শেষ পর্যন্ত তারাই জিতেছে।

তবে জয়টা যে মেসির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল, সেটাও প্রমাণ হয়। খেলাধুলা বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘গোল’কে একান্ত সাক্ষাৎকারে বার্সা কর্তাদের নিয়ে অনেক কথাই বলেন আর্জেন্টাইন তারকা। যদিও যে ক্লাব দিয়ে তার এতদূর আসা, সেই ক্লাবকে রাখেন শ্রদ্ধার আসনেই। এতকিছুর পরও বার্সার প্রতি দেখাননি তিনি বিন্দুমাত্র ঘৃণা। উল্টো বলেছিলেন, ভালোবাসেন বলেই আদালতে বার্সাকে দাঁড় করাতে চাননি। সবশেষে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। তবে এই থাকাই কি শেষ, নাকি হবে আরও লম্বা। আজ থেকে শুরু হওয়া লা লিগার নতুন মৌসুম যেন তেমনি একটা প্রশ্নের অবতারণা করল।

মেসি যখন বার্সা ছাড়ার অফিসিয়াল বার্তা পাঠান, তখন ক্লাবটির পক্ষ থেকে দুটি পথ তাকে দেখানো হয়। এক পুরো রিলিজ ক্লজ দিয়ে যাওয়া, দুই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে। মেসি কি দুই নম্বর রাস্তাটা বাছলেন? কে জানে। এখনও নতুন চুক্তিতে সই করেননি। আর যদি না-ই করেন তাহলে ২০২১ সালের জুনের পরই চলে যেতে পারবেন মেসি। আর জানুয়ারিতেই তাকে নামতে হবে নতুন যুদ্ধে। সেটা হলো নতুন ঠিকানা খোঁজা। তবে থাকার চান্সও যে নেই, সেটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ আগামী বছর বার্সার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তারপর বদলে যাবে ক্লাবের অনেক কিছুই। যেটা মেসির মনোজগতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে গত দুই মৌসুম দুই ফেভারিটের জন্য অনেকটা একরকমই কেটেছে! ২০১৮-১৯ এ বার্সা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়; কিন্তু রিয়াল ফেরে শূন্যহাতে। ২০১৯-২০ ঠিক তার উল্টো। বার্সা ফেরে খালি হাতে, রিয়ালের ঘরে যায় মুকুট। সেক্ষেত্রে এবারের মৌসুমটাও হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি। এই দুই ফেভারিট ছাড়াও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদও থাকবে লাইমলাইটে। তার ওপর ডাগআউটে জিদান বনাম কোম্যান। দু’দিকের দুই হেডমাস্টার। তাতে অনেকে বলছেন, এবারের এল ক্ল্যাসিকোগুলো খুব একটা ম্যাড়মেড়ে হবে না। দল সাজানো নিয়ে কৌশল, কিংবা মস্তিস্কের লড়াইয়েও দেখা যেতে পারে ভিন্ন এক খেলা। ২৭ সেপ্টেম্বর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মৌসুম শুরু করবে বার্সা, আর রিয়ালের শুরুটা হবে ২০ সেপ্টেম্বর সোসিয়েদাদের বিপক্ষে।








Leave a reply