রুবেল তোপে কাঁপলেন দুই তামিম

|

একজন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আরেকজন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে ওপেনিং জুটি কেমন জমে, সেটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। প্রতিবারই হতাশ হতে হল। টানা তিন ম্যাচে জুটি বাঁধলেন তারা। ব্যর্থ হলেন প্রতিবারই। কখনো বড় তামিম, কখনো ছোট তামিম সাজঘরে ফিরে গেছেন ইনিংসের শুরুতেই। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে পুরোপুরি ব্যর্থ নতুন এই জুটি।

এই ম্যাচে রুবেলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দেশসেরা ওপেনারের দল। রুবেল হোসেন ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে তামিম একাদশের সংগ্রহ ৮ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান।

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের প্রথম ম্যাচে নাজমুল একাদশের কাছে হেরেছিল মাহমুদউলস্নাহরা। দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন একাদশকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম জয় তুলে নিয়েছিল মাহমুদউলস্নাহ একাদশ। তামিম একাদশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।

মাহমুদউলস্নাহদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৯ বলের মাথায় তামিম ইকবাল আউট হয়ে যান। রুবেল হোসেনের বলে ৪ রানের মাথায় ভেঙে যায় ওপেনিং জুটি। নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ১১ বল দীর্ঘ হয় তাদের জুটি। দলীয় ১৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন তানজিদ।

সোমবার তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম একাদশের দলপতি তামিম ইকবাল। তামিম একাদশের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও তানজিদ হাসান তামিম। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি দুইজনের কেউই। এই ম্যাচে রুবেলের বোলিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে দেশসেরা ওপেনারের দল। মাহমুদউলস্নাহ একাদশের সেই রুবেলই ভাঙেন জুটি। রুবেলের বলে ১ রান করে প্রথম স্স্নিপে দাঁড়িয়ে থাকা নাঈম শেখের ক্যাচ হন তানজিদ হাসান তামিম। দলের রান তখন ৯। বড় তামিম টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। আবু হায়দার রনির বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে অধিনায়ক তামিম ৯ রানে সাজঘরে ফেরেন।

অফস্ট্যাম্পের অন্তত ১৮ ইঞ্চি বাইরের বলকে প্রচন্ড জোরে স্কোয়ার কাট করতে গিয়ে মাঝ ব্যাটে রাখতে পারেননি তামিম। বল বেশি বাইরে থাকায় শরীর ও পা কাছে ছিল না। যে কারণে বল মাটির ওপর ছিল। প্রায় ৫ ফুট উচ্চতা দিয়ে যাওয়া সেই বলকে অসামান্য দক্ষতা ও দারুণ ক্ষিপ্রতায় ধরে ফেলেন সাব্বির। বল তার বাঁ দিক দিয়ে চলে যাচ্ছিল। সাব্বির শূন্যে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে সেটা ধরে ফেললে তামিম সাজঘরে ফিরে যান। দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে ১১ রানে (৩.৬ ওভারে)।

দুইজনের জায়গায় ক্রিজে আসা এনামুল হক বিজয় ও মোহাম্মদ মিঠুনও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার ষোলকলা পূরণ করেছেন। রুবেলের বলে আউট হওয়ার আগে দুইজনই নিজেদের নামের পাশে যোগ করেছেন ১ রান। মাত্র ১৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় তামিম একাদশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ইয়াসির আলি ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

পঞ্চম উইকেটে বড় জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় তামিমের দল। কিপার ব্যাটসম্যান অঙ্কনের সঙ্গে জুটিতে ১১১ রান আনেন ইয়াসির। দুইজনের ভুল বোঝাবুঝিতে ইয়াসির ৬২ রানে আউট হয়ে ভাঙে এই জুটি। এর আগে বেশ সাবলীল ইনিংস খেলেছেন ইয়াসির। ইনসাইড আউটে বাউন্ডারি পেয়েছেন, মাহমুদউলস্নাহকে স্স্নগ সুইপে ছক্কায় উড়িয়েছেন।

পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলেছেন অনড্রাইভ। ৫ চার ১ ছক্কার ইনিংসটা হতে পারত আরও বড়। অঙ্কনের ডাকে সাড়া দিয়ে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে পৌঁছতে পারেননি স্ট্রাইকিং প্রান্তে। কিছুটা মন্থর খেলা অঙ্কনও পরে বেশিক্ষণ টেকেননি। রুবেলকে উড়াতে গিয়ে সহজ ক্যাচে ৫৭ রানে বিদায় হয় তার। বাকি পথে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৩৯ বলে ৪০ করেন মোসাদ্দেক। সাইফুদ্দিন ২৯ বলে করেন ৩৮ রান। শেষ ওভারে দুইজনকেই আউট করেন এবাদত হোসেন।








Leave a reply