মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযাত্রার শুরুতে সেই ইকুয়েডর

|

বার্সেলোনা ‘সোপ অপেরায়’ আপাত কদিনের বিরতি। লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ও স্পেন ছেড়ে এখন আর্জেন্টিনায়। সেখানেই আর্জেন্টিনার হয়ে নামছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের লড়াইয়ে। শুরু হচ্ছে মেসির আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান। চির আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটি হাতে তোলার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ৩৩ বছর বয়সী মহাতারকার। কাতার বিশ্বকাপ শেষে বয়স হবে ৩৫। এরপর আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার আকাঙ্ক্ষা বা অনুপ্রেরণা কোনটিই থাকার কথা নয় তার।

৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ইকুয়েডরের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচ আর্জেন্টিনার। বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরায় এ ম্যাচ খেলে ১৩ অক্টোবর মেসিরা দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে যাবেন বলিভিয়ার সঙ্গে লা পাজে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সবচেয়ে উঁচু ভেন্যুতে।

মেসিসহ বিদেশি লিগে খেলা খেলোয়াড়েরা আর্জেন্টিনায় পৌঁছেছেন গত মঙ্গলবার। সবাইকে নিয়ে একটি মাত্র দিনের অনুশীলনের পরদিনই নেমে পড়তে হচ্ছে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলতে। প্রতিপক্ষ সেই ইকুয়েডর, যারা ফিরিয়ে আনছে চারবছর আগের ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের স্মৃতি। সেবার বুয়েনস এইরেসে রিভার প্লেটের বিখ্যাত মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে এই ইকুয়েডরই আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল। শুরুতেই এই ধাক্কার পর আরও কিছু বাজে ফল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রাকে করে তুলেছিল অনিশ্চিত।

অবশেষে বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরকে হারিয়েই রাশিয়া বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পায় আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে দু’বারের ম্যাচ জিতিয়েছিলেন মেসি। বৃহস্পতিবার আবারও মুখোমুখি ইকুয়েডর, এ ম্যাচও হবে বুয়েনস এইরেসে, এবারের ভেন্যুও বিখ্যাত-বোকা জুনিয়র্সের স্টেডিয়াম লা বোম্বোনেরা। তবে এবার শুরুতেই অনাস্বাদিতপূর্ব এক অভিজ্ঞতা হবে ফুটবলের। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দর্শক ঢুকতে পারবে না মাঠে। গ্যালারি ঠাসা সপ্রাণ দর্শকের উপস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই পরিচিত বোম্বোনেরা শূন্যতা বুকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে।

গত রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া আর্জেন্টিনা দল তরুণ কোচ লিওনেল স্কালোনির হাতে পড়ে বদলে গেছে। তারুণ্যশক্তির আবাহন হয়েছে। যদিও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পাশে মেসির মতো কয়েকজন পুরোনো পরীক্ষিত মুখও আছেন দলে। স্কালোনিই বলেছেন দলে ৭/৮ জন পুরোনো খেলোয়াড় আছেন যারা দলের মূল ভিত্তি। আর মাত্র একদিনের প্রস্তুতির কারণে অভিজ্ঞ মাথাগুলোকেই দরকার তার। ম্যানচেস্টার সিটির চোটগ্রস্ত ফরোয়ার্ড সের্জিও আগুয়েরো দলে নেই, স্কালোনি প্যারিস সেন্ত-জার্মেইয়ের উঙ্গার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে ডাকেননি।

নতুন দর্শনে স্কালোনির অধীনে খারাপ করছে না আর্জেন্টিনা। গত ২০১৯ ব্রাজিল কোপা আমেরিকায় তৃতীয় হয়েছে। ওই কোপার কৌশলেই আস্থা রাখছেন আর্জেন্টিনা কোচ। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে, ‘মেসি চায় তার সামনে থাক দুই খেলোয়াড়, যাদের সে বল বানিয়ে দিতে পারবে। এই কৌশলেই আমরা ব্রাজিল ২০১৯ কোপায় ফল পেয়েছি।’ মেসির সামনের একজন হওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন লা লিগার দল সেভিয়ার ফরোয়ার্ড ‍লুকাস ওকাম্পোস। যাকে নিজের ব্যক্তিগত বিমানেই মেসি মঙ্গলবার স্পেন থেকে নিয়ে এসেছেন বুয়েনস এইরেসে।

‘সে খুব শক্তিশালী, কুশলী এবং গোল করতে পারে, আবার রক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে’- ওকাম্পোসকে নিয়ে বলেছেন স্কালোনি। ওকাম্পোসকে একাদশে রাখলে জুভেন্টাসের পাওলো দিবালা ও ইন্টার মিলানের লাওতারো মার্টিনেজের যেকোনও একজনকে নেবেন কোচ।

ইকুয়েডরের কোচও একজন আর্জেন্টাইন- ৫৮ বছর বয়সী আলফারো। আর্জেন্টিনায় ১৩ টি ক্লাবের কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। ২০০৭ সালে আর্সেনালকে জিতিয়েছেন কোপা সুদামেরিকানা। প্রয়াত ডাচ কোচ ইয়োহান ক্রুইফের ছেলে জর্ডি ক্রুইফ ইকুয়েডরের দায়িত্ব নেওয়ার ছয়মাস পরই গত জুলাইতে পদত্যাগ করলে কোচ করা হয় আলফারোকে। করোনাভাইরাসের কারণে একটা দুঃসময়ই গেছে ইকুয়েডরের ফুটবলে।








Leave a reply