বাবার ইচ্ছায় আইপিএলে

|

পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে গত কয়েক বছরে ক্রিকেট ভক্তদের অন্তরেই হয়ত জায়গা করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বেন স্টোকস। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত ক্রিকেট বিশ^কাপে তার বদৌলতেই তো শিরোপাখরা গোচাতে পেরেছে ইয়ন মরগানের দল। শুধু কি ওয়ানডের খেলোয়াড় তিনি? টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও তো ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় বলা যায় তাকে! সেই স্টোকসকে ছাড়াই এবার আইপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছে দুবাইয়ের মাটিতে। না, শেষ পর্যন্ত আইপিএলে যোগ দিচ্ছেনই এই অলরাউন্ডার। যার কারণে শুরুতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি সেই বাবাই এবার তাকে আইপিএলে অংশ নিতে বলেছেন। অসুস্থ বাবার ইচ্ছায় রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে দুবাইয়ে পাও রেখেছেন ২৯ বছর বয়সি এই খেলোয়াড়। স্টোকসের বাবা জেড স্টোকস দুরারোগ্য ক্যান্সারের কারণেই শুরুতে আইপিএলের আসরে দেখা যায়নি স্টোকসকে। বাবার পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলার মাঝপথেই সব ছেড়ে সোজা নিউজিল্যান্ডে উড়ে যান। ৫ সপ্তাহ ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর অবশেষে তার বাবাই তাকে দুবাইয়ে এসে আইপিএল খেলতে বলেছেন। উল্লেখ্য, বাবার পাশে থাকার জন্য স্টোকস পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত পরিসরের সিরিজে খেলতে পারেননি।

গত শনিবার দুবাইয়ে পা রেখেছেন স্টোকস। করোনার নিয়ম মেনে বর্তমানে তিনি আছেন কোয়ারেন্টাইনে। নিজের অবস্থা সম্পর্কে বলতে স্টোকস জানান, বাবা-মা এবং আমার ভাইকে ক্রাইস্টচার্চে বিদায় বলে আসাটা খুবই কঠিন ছিল। আমাদের পরিবারের জন্যও ব্যাপারটা কঠিন। কিন্তু আমরা একসঙ্গে বসেছি এবং যতটা সম্ভব একে অপরকে সাহায্য করেছি। তিনি আরো যোগ করেন, আইপিএলে খেলার সিদ্ধান্তটা নেয়ার পর আমার বাবা মায়ের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়েই বিমানে উঠেছি। খেলায় ফেরার জন্য আমার পরিবারটা এমন, যেখান থেকে বাড়তি প্রভাবের দরকার পড়ে না। আসলে আমার বাবা দায়িত্বের ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমার আইপিএলে খেলাটা তিনি একপ্রকার দায়িত্ব মনে করেছেন। অন্যদিকে আমার মা ব্যাপারটাকে আরো সহজ করেছেন। তিনি বলেছেন, এখানে বাবার সঙ্গে সময় ব্যয়ের চেয়ে আইপিএলে এসে সময় কাটানোটা আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আইপিএল ক্যারিয়ারে বেন স্টোকস এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ৩৪টি। এর মধ্যে ৩৩ ম্যাচে ব্যাট করতে পেরেছেন, যেখানে তার রানের সংখ্যা ৬৩৫। সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা ১০৩ রানের। ১০৩ রানের ইনিংস ছাড়াও একবার হাফসেঞ্চরিও এসেছে তার ব্যাট থেকে। এই ৩৪ ম্যাচে ২৬টি উইকেটও নিয়েছেন তিনি।








Leave a reply