বাবর আজম কোহলির মতো মনোযোগ পায় না

|

ইংল্যান্ড সফরটা পাকিস্তানের হয়ে রাঙাবেন বাবর আজম—এমন পূর্বাভাষ মিলেছিল আগেই। বাবর সেটিকে সত্যে পরিণত করার কাজটা শুরু করে দিলেন প্রথম থেকেই। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড গতকাল শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই দুর্দান্ত পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে বাবর আর শান মাসুদের কল্যাণে পাকিস্তান ভালোই করেছে। ২ উইকেটে ১৩৯ রান তুলেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে বাবরের সংগ্রহ ১০০ বলে ৬৯। মাসুদ করেছেন ১৫২ বলে ৪৬। এ দুজনের ৯৬ রানের জুটিতে প্রথম দিনটা মোটামুটি ভালোই পার করেছে পাকিস্তান দল।

বাবর যেকোনো বিচারের কাল ছিলেন দুর্দান্ত। জফ্রা আর্চার, ক্রিস ব্রড, জিমি অ্যান্ডারসন কিংবা ডম বেসদের খেলেছেন কর্তৃত্ব নিয়েই। প্রতিটি শটই ছিল দুর্দান্ত। কখনো ব্রড-অ্যান্ডারসনদের মিডল স্টাম্পের ওপর করা বলে ফ্লিক করেছেন, কখনো অফ স্টাম্পের বাইরের বলে মেরেছেন কভার ড্রাইভ। আক্রমণাত্মক কিংবা রক্ষণাত্মক যে মেজাজেই হোক বাবর বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন দারুণভাবেই। ১১ বাউন্ডারির প্রতিটিই ছিল চোখ ধাঁধানো, নিজের প্রতিভার পূর্ণ প্রদর্শনী।

ওল্ড ট্রাফোর্ডের প্রথম দিনটা পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন পাকিস্তানের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ও স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার নাসের হোসেইনের মতে এত কিছু করেও বাবর যেন পূর্ণ মনোযোগটা পাচ্ছেন না। অথচ তাঁর জায়গায় যদি বিরাট কোহলি থাকতেন, তাহলে তাঁকে নিয়ে হইচই পড়ে যেত এতক্ষণে।
নাসের হোসেইন ধারাভাষ্যে এসে সোজাসাপটাই কথাগুলো বলেছেন। কোহলি হলে তাঁকে নিয়ে অনেক কথা হতো। কিন্তু ব্যাটসম্যানটা যেহেতু বাবর, তাই যেন প্রশংসাতে সবার কার্পণ্য, ‘যে খেলাটা বাবর খেলেছে, সেটা কোহলি খেললে, সবাই তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিত। অথচ, বাবরকে সে প্রশংসাটুকু দিতে কতই না কার্পণ্য আমাদের।’

তিনি বাবরের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছেন কোহলির চেয়ে কোনো অংশেই কম নন এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান, ‘২০১৮ সাল থেকে বাবরের গড় টেস্টে ৬৮ আর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ৫৫। সে তরুণ, সে দুর্দান্ত। তাঁর মধ্যে সব রাজকীয় ব্যাপার-স্যাপারই আছে।’

হালে ক্রিকেটে ‘ফ্যাব ফোর’ হিসেবে পরিচিত চার ক্রিকেটার—বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসন, জো রুট আর স্টিভ স্মিথ। নাসের হুসেইন এটিকে ‘ফ্যাব ফাইভে’ রূপান্তরের কথা বলছেন এ দলে বাবরকে যুক্ত করে, ‘সবাই ফ্যাব ফোরের কথা বলে। কিন্তু আমার মতে কথাটা ফ্যাব ফাইভ। আর বাবর হচ্ছেন এই দলের অন্যতম সদস্য।’

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের দেশের মাটিতে খেলতে না পারাটা দুর্ভাগ্যই বলে মনে করেন। তাঁর মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট দলটি সব সময়ই ভারতীয় ক্রিকেট দলের ছায়ার তলায় হারিয়ে যায়, ‘এটা দুর্ভাগ্য যে পাকিস্তান ঘরের মাঠে খেলতে পারে না। তাঁরা হোম সিরিজগুলো খেলে আরব আমিরাতে বলতে গেলে দরজা বন্ধ করেই। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খেলা দর্শকদের চোখে তেমন একটা পড়ে না। আমার তো মনে হয় পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ছায়ার তলায় হারিয়ে যায় সব সময়।








Leave a reply