ফন ডাইকের জন্য ভালো স্ত্রীর মতো অপেক্ষা করবে লিভারপুল

|

হাঁটুর চোটে মৌসুমটাই প্রায় শেষ হয় গেছে ভার্জিল ফন ডাইকের। রক্ষণদুর্গের প্রধান সেনানীকে হারিয়ে বড় বিপদেই পড়েছে লিভারপুল। ডাচ ডিফেন্ডারের সুস্থতা কামনা করে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের।

৩০ বছর পর দলকে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ জেতানোর অন্যতম নায়কের সুস্থতার জন্য কতটা উদ্‌গ্রীব লিভারপুল তা পরিষ্কার কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের কথায়। লিভারপুলের জার্মান কোচ বলেছেন, ‘স্বামী জেলে গেলে ভালো স্ত্রী যেভাবে অপেক্ষা করে ঠিক সেভাবেই তার জন্য অপেক্ষা করব আমরা।’

গত শনিবার প্রিমিয়ার লিগে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন ফন ডাইক। এভারটন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড গোল বাঁচাতে গিয়ে আঘাত করেন ২৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে।

লিভারপুলের ওয়েবসাইটে গতকাল ফন ডাইকের চোটের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন ক্লপ, ‘একটি জিনিস পরিষ্কার, সে (ফন ডাইক) লম্বা সময়ের জন্যই বাইরে চলে গেছে। আমরা তাকে কবে ফেরত পাব সেই সময় বেঁধে দিতে পারি না। এটা সম্ভবও নয়। এক্স, ওয়াই, জেড খেলোয়াড়ের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া যায় কিন্তু ভার্জিল (ফন ডাইক) হলো ভার্জিল আমরা তাঁর জন্য কোনো সময় বাঁধতে চাই না।’

তবে ফন ডাইককে যে লম্বা সময়ের জন্য পাচ্ছে না লিভারপুল তা স্বীকার করে নিয়েছেন ক্লপ, ‘সে লম্বা সময়ের জন্য বাইরে চলে গেছে, এটাই হলো বাস্তবতা। তাকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো হলো সেটি দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম এ রকম কিছু হতে যাচ্ছে।’

ক্লপের চাওয়া ফন ডাইকের মতো আর কেউ যেন এ রকম চোটে না পড়েন, ‘তাঁর যন্ত্রণাটা আমরা বুঝি কারণ আমাদের বেশির ভাগকেই এ রকম অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা জানি অবস্থাটা কতটা বিরক্তিকর, কেউ এটা চায় না। সবাইকে এটি থেকে সেরে উঠতে হয়, শতভাগ নিশ্চিত ভার্জিলও সেরে উঠবে। আর সেই প্রক্রিয়াটার প্রথম দিন আজ।’

ক্লপ জানিয়েছেন ফন ডাইক চাচ্ছেন সেরে ওটার সময়টা একাকী কাটাতে। তবে ‘ভালো স্ত্রী’র মতো ক্লাব চাচ্ছে ফন ডাইকের পাশে থাকতে, ‘তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। আমরা তাঁর পাশেই আছি। সে এটি জানেও। স্বামী জেলে গেলে ভালো স্ত্রী যেভাবে অপেক্ষা করে ঠিক সেভাবেই তার জন্য অপেক্ষা করব আমরা। পুরো ব্যাপারটা তাঁর জন্য যতটা সহজ করা সেটি করার চেষ্টাই করছি আমরা।’

এর আগে ফন ডাইক আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফেরার প্রতিজ্ঞার কথা বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যেকোনো কঠিন সময়ের পেছনে ভালো করার সুযোগ লুকিয়ে থাকে, তাই এই হতাশার মাঝেও আমি আশাবাদী, ঈশ্বরের সহায়তায় আমি আগের চেয়েও বেশি সুস্থ, ফিট ও শক্তিশালী হয়ে ফিরব। ফুটবল কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে ঘটা সবকিছুর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। সময় ভালো হোক বা খারাপ, মাথা ঠান্ডা রাখা খুবই জরুরি। স্ত্রী, সন্তান, পরিবার ও লিভারপুলের প্রত্যেকের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত। আমাকে যারা বার্তা পাঠিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন, আমি ও আমার পরিবার সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন আমি আমার সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করব। এক এক দিন করে আস্তে আস্তে আমি সুস্থ হয়ে উঠব। আমি ফিরে আসবই।’








Leave a reply