ডাবল সুপার ওভারে গেইলের ব্যাটে পাঞ্জাবের হাসি

|

১২০ বলের ম্যাচ বলে প্রথম থেকেই মারো কিংবা মরো। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তাই অতি উত্তেজক। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই দলের রান সমান হয়ে গেলে আছে টাইব্রেকার-সুপার ওভার। এটি তাই রোমাঞ্চকর। সুপার ওভারও টাই হয়ে গেলে থাকে ডাবল সুপার ওভার। এটি তাই শ্বাসরুদ্ধকর। রবিবার রাতে আইপিএল উত্তেজনাকর, রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর ক্রিকেটে জয় দেখলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। সুপার ওভারেরও সুপার ওভার, মানে ডাবল সুপার ওভারে গিয়ে হেরেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।

মুম্বাইয়ের হারের পেছনের মানুষটি কে? যদি ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্তটি খুঁজতে যান, ক্রিস গেইল ছাড়া আর কাউকে পাবেন না। রবিবারের দুটি, আর আগের দুটি মিলিয়ে চারটি ম্যাচের মীমাংসা সুপার ওভারে করলো ১৩তম আইপিএল। চার ম্যাচে এ পর্যন্ত প্রথম এবং একমাত্র ছক্কাটি মারলেন কে? গেইল, স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্স বস’ ছক্কা মারা যার কাছে পৃথিবীর সহজতম কাজ। ডাবল সুপার ওভারের প্রথম বলেই লং অনের ওপর দিয়ে ছয়। এই ছক্কাই প্রয়োজনীয় ১২ রান তোলাটা সহজ করে দেয়। দ্বিতীয় বলে একটি সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদলান গেইল। বাঁহাতি কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে পর পর দুই চার মেরে সমীকরণ মিলিয়ে দেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল।

ক্রিস জর্ডানের করা দ্বিতীয় সুপার ওভারে কাইরন পোলার্ড ও হার্দিক পান্ডিয়া ১১ তুলে পাঞ্জাবকে লক্ষ্য দিয়েছিলেন ১২ রানের।এর আগে সুপার ওভারে যশপ্রীত বুমরার ভয়ঙ্কর বোলিংয়ের মুখোমুখি হয়ে মুম্বাইকে মাত্র ৬ রানের বেশি লক্ষ্য দিতে পারেনি পাঞ্জাব। দুই বলে দুটি উইকেট (নিকোলাস পূরাণ ও কেএল রাহুল), বাকি চার বলে রাহুলের চার রান ও দীপক হুডার একটি সিঙ্গেল মিলিয়ে মাত্র ৫ রান করেছিল পাঞ্জাব।

ফর্মে থাকা কুইন্টন ডি কক ও রোহিত শর্মার কাছে এটা কোনও লক্ষ্য? এ তো একটি ছক্কার ব্যাপার। ২০ ওভারের খেলায় ভাগ্য পাশে ছিল না বলে পাঞ্জাবের ১৭৬ রান টপকানো যায়নি। কিন্তু সুপার ওভারে প্রতিপক্ষের কোনও সুযোগ দেখেনি মুম্বাই। দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন রোহিত শর্মাদের জয়ের ছবি আঁকা হয়ে গেল আগেই। তবে ক্রিকেট বিধাতার ছিল অন্য হিসেবে। না হলে মোহাম্মদ শামিও বোলিংয়ে ওরকম জ্বলে উঠবেন কেন! নিখুঁত ওয়াইড ইয়র্কার ও ইয়র্কার দিয়ে রান তোলার কঠিন করে দিলেন। প্রথম তিন বলে তিনটি সিঙ্গেল, চতুর্থ বলটি বিশুদ্ধতম ইয়র্কার, রান আসেনি। পঞ্চম বলটি আবার ইয়র্কার, ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে কোনরকমে একটি সিঙ্গেল নিতে পারেন রোহিত।

শেষ বলে দরকার ছিল ডাবলস, দ্বিতীয় রানটি পূর্ণ করার আগেই উইকেটকিপার রাহুলের হাতে দুর্দান্তভাবে রানআউট ডি কক। যদিও পূরাণের থ্রোটি ভালো ছিল না। ম্যাচ গড়ায় ডাবল ওভারে এবং সেখানেই আবার নায়ক ৪১ বছর বয়সী গেইল।

এর আগে ম্যান অব দ্য ম্যাচ রাহুল ১৫ বলে ২৩ রানের সমীকরণে নিয়ে যান পাঞ্জাবকে। বুমরার তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে সাত চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ বলে খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে হুডা ও জর্ডান বোল্টের করা শেষ ওভারে দলকে ৯ রানের সহজ সমীকরণে নিয়েও জেতাতে পারেননি। শেষ বলে জর্ডান খুবই বাজে দৌড়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট পোলার্ডের থ্রোতে। ম্যাচ যায় সুপার ওভারে, সেখান থেকে ডাবল সুপার ওভারে। আর প্রথমে ডি ককের ৫৩, ক্রুনাল ও পোল্যান্ডের ৩৪ এবং নাথান কুল্টার-নাইলের ২৪ রানের সুবাদে ১৭৬ রান করেছিল টসজয়ী মুম্বাই।

নবম ম্যাচে তৃতীয় হারের পাশে ছয় জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বাই আছে দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে পাঞ্জাবের তৃতীয় জয়, হাতে ৬ পয়েন্ট। হায়দরাবাদ, চেন্নাই ও রাজস্থানেরও সমান পয়েন্ট। শেষ অর্ধ থেকে প্লে-অফে ওঠার লড়াইটাও জমলো। আদতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তার ইতিহাসেই রবিবারের মতো এমন জমজমাট দিন আর দেখেনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:মুম্বাই: ২০ ওভারে ১৭৬/৬ (ডি কক ৫৩,পোলার্ড ৩৪, ক্রুনাল ৩৪, কুল্টার-নাইল ২৪, শামি ২/৩০, আরশদীপ ২/৩৫) ও পাঞ্জাব: ৫০ ওভারে ১৭৬/৬ (রাহুল ৭৭, গেইল ২৪, পূরাণ ২৪, হুডা ২৩*, বুমরা ৩/২৪, চাহার ২/৩৩)।

ফল: ডাবল সুপার ওভারে জয়ী পাঞ্জাব








Leave a reply