চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ধোনির চেন্নাইয়ের শুরু

|

নানা শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে আইপিএলের ত্রয়োদশ আসর। গেল বছর রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হেরে ট্রফিটাও হারিয়েছিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। এবার অবশ্য সেই প্রতিশোধটা নিয়ে নিলেন ক্যাপ্টেন কুল।
আইপিএলের ১৩তম সংস্করণের প্রথম ম্যাচেই রোহিতের দলকে হারিয়ে শুভ সূচনা করলেন ধোনি। উদ্বোধনী ম্যাচের শুরুতেই টস জয়ে শুরু ধোনির। তবে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শনিবার আবু ধাবিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো সূচনা পায় মুম্বাই। রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি ককের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৬ রান। ১২ রান সংগ্রহ করে চাওলার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন রোহিত শর্মা।

পরের ওভারেই আউট হন আরেক ওপেনার ডি ককও। তার সংগ্রহ ৩৩ রান। এরপর সুর্যকুমার যাদব ও সৌরভ তিওয়ারির ব্যাটিংয়ে কিছুটা ধীরগতি থাকায় খেই হারিয়ে ফেলে মুম্বাই।

১৬ বলে ১৭ রান করেন যাদব। ৩১ বলে ৪২ রান করেন তিওয়ারি।

হার্দিক পান্ডিয়া, পোলার্ডরা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলতে সক্ষম হয় মুম্বাই।

তিন উইকেট শিকার করেন চেন্নাইয়ের প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিদি। ২টি করে উইকেট শিকার করেন দীপক চাহার ও রবিন্দ্র জাদেজা।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি চেন্নাইয়ের। প্রখম দুই ওভারেই ২ ওপেনার শেন ওয়াটসন ও মুরালি বিজয়কে হারায় তারা। তবে ফাফ ডু প্লেসি আর আম্বাতি রায়ডুর ব্যাটিংয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে তারা। দুজনে মিলে গড়েন ১১৫ রানের জুটি। ৪৮ বলে ৭১ রান করেন রায়ডু। তবে ৫৮ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ডু প্লেসি।

মহেন্দ্র সিং ধোনী (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ (সাহায্য·তথ্য); হিন্দি: महेन्द्र सिंह धोनी; জন্ম ৭ জুলাই ১৯৮১) ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় ক্রিকেটার। মহেন্দ্র সিং ধোনীর অধিনায়কত্বে ভারত ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টোয়েন্টি২০, ২০০৭-০৮ সালের সিবি সিরিজ, ২০০৮ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে একটি সিরিজ ও ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেছে। তার অধিনায়কত্বেই ভারত টেস্টের র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছিল। এখনও পর্যন্ত টেস্ট এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার রেকর্ড ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে সেরা। তিনি ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় করেন, সেই সাথে বিশ্বের প্রথম অধিনায়ক, যাঁর আইসিসির সব টুর্নামেন্ট জয় করার কৃতিত্ব রয়েছে । আইপিএল ২০১০ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে তিনি চেন্নাই সুপার কিংস দলের অধিনায়কত্ব করছেন। তার নেতৃত্বে ভারতীয় দল প্রথম শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ জয় করেছে এবং ভারত কুড়ি বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারাতে সক্ষম হয়েছে।

ধোনী একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আইসিসি একদিনের ক্রিকেটের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। তিনিই প্রথম ভারতীয়, যিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান রাজীব গান্ধী খেলরত্ন ও দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পেয়েছেন।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রেটিংয়ে জানুয়ারী ২০১০ সালে ধোনী সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংধারী খেলোয়াড়ের অধিকারী ছিলেন। ২০০৯ সালে ক্রিকেটের বাইবেল নামে পরিচিত উইজডেনের স্বপ্নের টেস্ট একাদশ দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষিত হন এবং ফোর্বস ম্যাগাজিন কর্তৃক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী ১০ ক্রিকেটারের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে মনোনীত হন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

২০০৯ সালে ধোনি আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট এবং আইসিসি ওডিআই দলের অধিনায়ক হিসেবে তার নাম ঘোষিত হয়। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চূড়ান্ত খেলায় তিনি মাত্র ৭৯ বলে ৯১ রান করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাট করেন এবং ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হয়। ঐ খেলায় ধোনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেন। বিশ্বের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয় করেন ।

২০১১ সালে ধোনিকে ভারতের সামরিক বাহিনী লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদমর্যাদা প্রদান করে।[২] মহেন্দ্র সিং ধোনী ১৫ই অগাস্ট, ২০২০ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ ঘোষনা করেছেন।








Leave a reply