কোচিং স্টাফের ছোড়া বল ছিটকে দিলো স্মিথকে

|

নেট প্র্যাকটিসে ক্রিকেটারদের চোট-টোট অনেক সময় লাগে। কখনও কখনও তা ম্যাচ থেকেই ছিটকে ফেলে কাউকে। অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ যেমন ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি থেকে ছিটকে পড়ে খেলতে পারলেন না। মাথায় ভালো রকমই চোট লেগেছে মনে হচ্ছে, না হলে সংবাদমাধ্যম কেন বলবে রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচেও তাকে নিয়ে সংশয় আছে!

তার জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন মিচেল মার্শ। তার তিন নম্বর জায়গায় ব্যাট করেছেন মার্কাস স্টয়নিস। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া যে ওল্ড ট্রাফোর্ডে শুক্রবার ৯ উইকেটে ২৯৪ রান করতে পারলো, তাতে এ দুজনের বেশ ভালোই অবদান আছে। ৪৩ করেছেন স্টয়নিস, ৭৩ মার্শ। সর্বোচ্চ ৭৭ এসেছে অবশ্য গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে।

প্রথম ম্যাচটা তো গেলই। যদি দ্বিতীয় ম্যাচেও না খেলতে পারেন, আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যানের জন্য সেটা হবে বড় হতাশার। স্মিথের আরও খারাপ লাগতে পারে এই ভেবে, কোনও বোলারের বলে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি!

অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদমাধ্যমই জানায় যে বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে স্মিথকে নেটে বল করছিলেন কোচিং স্টাফের একজন। তার বল আচমকা আঘাত করে মাথায়। নেট থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেননি। পরে কনকাশান (মাথার আঘাত) পরীক্ষার পর সতর্কতাবশত প্রথম ম্যাচ থেকে বাদ রাখা হয় স্মিথকে।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফো প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার পর পরই অস্ট্রেলিয়া দলের এক মুখপাত্রের বরাতে জানিয়েছে, শনিবার আবারও স্মিথের একটি পরীক্ষা হবে। তারপরই সিদ্ধান্ত হবে দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে কি না।

ইংল্যান্ড, স্টিভ স্মিথ এবং কনকাশান-ব্যাপারগুলো ঘটনাচক্রে কেমন যেন মিলে যাচ্ছে। গত বছর আগস্টে লর্ডসে অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টেও স্মিথের আঘাত লেগেছিল। ইংল্যান্ড ফাস্ট বোলার জফরা আর্চারের বাউন্সারে গলায় আঘাত পেয়ে উঠে যান মাঠ থেকে। আধঘণ্টা পর ফিরেও আসেন। ৮০ রানে ব্যাট করছিলেন, ক্রিজে ফিরে আরও ১২ রান যোগ করে আউট হয়ে যান। কিন্তু হোটেলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় পরীক্ষায় কনকাশান উপসর্গ ধরে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করতে পারেননি। তার জায়গায় ব্যাট করেন মারনাস লাবুশেন, ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ‘কনকাশান সাব’! আরেকটি ইতিহাসও গড়ে ফেলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ৫৯ রানের সুবাদে টেস্ট ড্র করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ অবশ্য পরের টেস্টেও (লিডস) খেলতে পারেননি ওই আঘাতজনিত জটিলতায়।

এক বছর পর আবার ইংল্যান্ড ফিরে ‘কনকাশানে’র শিকার স্মিথ। এবার প্রতিপক্ষ কোনও বোলারের বল তাকে আঘাত করেনি। নিজের দলের কোনও বোলারও ছিলেন না এই দুর্ঘটনার পেছনে। দুর্ভাগ্যের কারণ এক কোচিং স্টাফের ছোড়া বল!








Leave a reply