আগে সহযোগিতা পরে চাপ

|

চতুর্থ মেয়াদে বাফুফে নির্বাচন জেতার পরই কাজী সালাউদ্দিন সরব জেলার ফুটবল নিয়ে। টানা দুইবার জেলা ফুটবল লিগ না হলে ওই জেলার কাউন্সিলরশিপ বাতিলের ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর করতে লাগবে ফেডারেশনের সাধারণ সভা। বাফুফে সভাপতির ঘোষণাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অনেক জেলা সংগঠক ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাল্টা দাবিও তুলেছেন।

মৌলভীবাজার জেলা ফুটবল সংস্থার সভাপতি আক্তারুজ্জামান মনে করেন, ‘আমি যতটুকু জানি, জেলার সংগঠকদের চাপে রাখার জন্য সভাপতি এই ঘোষণা দিয়েছেন। আগে বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে এ রকম একটা আলোচনা হয়েছিল। এটা কার্যকর করতে গেলে সাধারণ সভায় অনুমোদন করতে হবে।’ নিজের জেলায় নিয়মিত ফুটবল লিগ আয়োজনের দাবি করে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিনের ঘোষণাকে, ‘আমার কাছে এটা ভালো উদ্যোগ মনে হয়। অনেক জেলা সংগঠনে কর্মকর্তারা শুধু পদ দখল করে বসে আছেন, খেলাধুলা চালান না।

এ রকম নিয়ম করা হলে হয়তো তাঁরা ফুটবলে মনোযোগী হবেন।’ কয়েকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রে জেলায় নিয়মিত খেলা চালানোর বাধ্যবাধকতার উল্লেখ আছে। খেলা না চালালে হুমকির মুখে পড়বে তাদের জাতীয় ফেডারেশনের কাউন্সিলরশিপ। তবে ফুটবলে সে রকম কিছু নেই। তাই সেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হলে অবশ্যই বাফুফের সাধারণ সভা ডাকতে হবে বলে মনে করেন বরিশাল জেলা ফুটবল সংস্থার সভাপতি আলমগীর খান আলো, ‘সালাউদ্দিন সাহেব ঠিক কী বলেছেন আমি জানি না। তবে টানা দুই বছর লিগের বাধ্যবাধকতা দিলে বার্ষিক সাধারণ সভায় সেটি অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।’

তবে ফুটবল সভাপতির এই ঘোষণায় অন্য গন্ধ পাচ্ছেন টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জামিল, ‘জেলার ভোট খেয়ে ফেলার চেষ্টা শুরু করেছেন সভাপতি। ভোটের সময় ছাড়া জেলার সংগঠক ও জেলার ফুটবল কখনো গুরুত্ব পায় না বাফুফের কাছে। দুই বছর ধরে আমি টাঙ্গাইল জেলা ফুটবলে আছি, কিন্তু কোনো টাকা তো বাফুফে থেকে পাইনি।

তাই বলে কি আমার জেলার ফুটবল লিগ থেমে আছে? টাঙ্গাইলে সমস্যা হলো ফুটবলের জন্য স্টেডিয়াম বরাদ্দ পাওয়া যায় না।’ তিনি জেলার ফুটবলের প্রতি বাফুফেকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, ‘অনেক জেলায় আর্থিক সমস্যার কারণে ফুটবল চলে না। তাদের ডেকে সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করুন। জেলাকে বাদ দিয়ে দেশের ফুটবল উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

রাজবাড়ীর সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম দুলালও জেলার ফুটবল নিয়মিতকরণে বাফুফের সহযোগিতা কামনা করেছেন, ‘বাফুফে সাপোর্ট করলে জেলাগুলো দুই বছর কেন, প্রতিবছরই লিগ করতে পারবে। গত বছর দুই লাখ টাকা পেয়েছি বাফুফে থেকে। মফস্বলে লিগ করতে গেলে ক্লাবগুলোকে সাহায্য করতে হয়। এখানে স্পন্সর নাই, কিন্তু লিগ করতে ১০-১৫ লাখ টাকা খরচ হয়।’

টানা ১২ বছরের এই জেলা ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তি বাফুফে সভাপতির ঘোষণার সঙ্গে ঐক্য প্রকাশ করে অনুদানের দাবি তুলেছেন, ‘ফিফা, এএফসি, সরকার ও স্পন্সর থেকে অর্থ পায় বাফুফে। সেখান থেকে জেলাগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক অনুদান দিলে অবশ্যই আমাদের পক্ষে নিয়মিত লিগ আয়োজন সহজ হয়। বাফুফে সভাপতির কথার স্পিরিটের সঙ্গে আমি একমত, তবে জেলার ফুটবল জাগাতে হলে তাদের সাহায্য লাগবে।’ জেলা লিগ আয়োজন করতে না পারার ব্যর্থতা যেমন জেলা সংগঠকদের আছে, তেমনি বাফুফেরও আছে পরোক্ষ দায়।

২০১৯ সালে ফিফা-এএফসি-সরকার-স্পন্সর মিলিয়ে বাফুফের আয় হয়েছে ৩৬ কোটি টাকারও বেশি। এমন আয় থেকে জেলা ফুটবল তো বরাদ্দ দাবি করতেই পারে। সরকারের বরাদ্দ থেকে অবশ্য গত বছর কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে জেলাগুলোকে। বাফুফে এই অনুদান দেওয়ার ধারাটা অব্যাহত রাখার পর জেলাগুলোকে খেলা চালানোর নৈতিক চাপ দিতে পারে। তখন সালাউদ্দিনের ঘোষণাও সাধারণ সভায় অনুমোদন করানো সহজ হয়ে যায়।

সালাউদ্দিনের শর্তের জবাবে
রাজবাড়ীর সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেছেন, ‘বাফুফে সাপোর্ট করলে জেলাগুলো দুই বছর কেন, প্রতিবছরই লিগ করতে পারবে। গত বছর দুই লাখ টাকা পেয়েছি বাফুফে থেকে। মফস্বলে লিগ করতে গেলে ক্লাবগুলোকে সাহায্য করতে হয়। এখানে স্পন্সর নাই, কিন্তু লিগ করতে ১০-১৫ লাখ টাকা লাগে।’








Leave a reply