ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ৪৮ দলের ঐতিহাসিক ফুটবল মহাযজ্ঞের সর্বশেষ আপডেট ও সময়সূচি
আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, যেখানে প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দেশ।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এবার এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মোট ১৬টি দৃষ্টিনন্দন ভেন্যুতে বসেছে বিশ্বফুটবলের এই রাজকীয় আসর। ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবার ঐতিহ্যবাহী ৩২ দলের ফরম্যাট ভেঙে টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়িয়েছে। এর ফলে ফুটবলপ্রেমীরা এবার আরও বেশি ম্যাচ, নাটকীয়তা এবং নতুন নতুন দেশের ফুটবল শৈলী উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিন দেশের যৌথ আয়োজন ও ভেন্যু বিন্যাস বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এর আগে ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও তা ছিল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, মেক্সিকো সিটি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং মায়ামির মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শহরগুলোতে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভৌগোলিক দূরত্ব বিবেচনা করে দলগুলোর ভ্রমণক্লান্তি কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবার ভেন্যুগুলোকে তিনটি আঞ্চলিক ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হয়েছে।
নতুন ফরম্যাট ও নকআউট পর্বের সমীকরণ দল সংখ্যা ৩২ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বদলে গেছে টুর্নামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস। এবারের আসরে দলগুলোকে মোট ১২টি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রতি গ্রুপে চারটি করে দল লড়ছে। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল টিকিট পাবে পরবর্তী রাউন্ডের। এর ফলে কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার যুক্ত হয়েছে রাউন্ড অব থার্টি-টু বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগের একটি অতিরিক্ত নকআউট পর্ব। ম্যাচ সংখ্যা ৬৪ থেকে একলাফে ১০৪টিতে উন্নীত হওয়ায় ফুটবল ভক্তদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এ যাবৎকালের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল উৎসব।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ডিজিটাল সম্প্রচার তিন দেশের সম্মিলিত বাজার এবং বর্ধিত ম্যাচ সংখ্যার কারণে এবারের বিশ্বকাপকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ এবং পর্যটন খাত থেকে আয়োজক দেশগুলো রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওটিটি অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের শতকোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে হাই-ডেফিনিশন লাইভ স্ট্রিমিং। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া বাণিজ্যে এক নতুন জোয়ার এসেছে, যা উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য বড় মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি ফুটবলকে বিশ্বজুড়ে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।