রাজকীয় হানিমুনের চিঠি নিলামে, ফাঁস হলো প্রিন্সেস ডায়ানার তরুণী বয়সের অজানা আবেগ
ব্রিটেনের রাজপরিবারের প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ১৯৮১ সালের হানিমুনের সময় লেখা একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত চিঠি ও কিছু দুর্লভ ছবি যুক্তরাজ্যে নিলামে উঠতে চলেছে, যা তাঁর তরুণী বয়সের রাজকীয় জীবনের এক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব প্রিন্সেস ডায়ানার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহের শেষ নেই। তৎকালীন যুবরাজ (বর্তমান রাজা) চার্লসের সঙ্গে বিয়ের পর তাঁদের হানিমুনের সময় ডায়ানার লেখা একটি চিঠি এবার জনসমক্ষে আসতে চলেছে। ডায়ানার শৈশবের বান্ধবী ক্যাথরিন হ্যানবেরি তাঁর সংগ্রহে থাকা ডায়ানার কিছু চিঠি এবং স্কুল জীবনের দুর্লভ ছবি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত নিলাম সংস্থা ‘গরিঞ্জেস’—এর মাধ্যমে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই চিঠি ও ছবিগুলোতে ডায়ানার রাজকীয় পরিবারের একজন তরুণী কনে হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার শুরুর দিনগুলোর মানসিক অবস্থার এক চমৎকার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সংসার ও নতুন জীবন নিয়ে আশাবাদী ডায়ানা ডায়ানার বাল্যবান্ধবী ক্যাথরিন হ্যানবেরি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ওয়েস্ট হিথ গার্লস স্কুলে ডায়ানার সহপাঠী ছিলেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন জানান, বিয়ের পর প্রিন্স চার্লসকে নিয়ে ডায়ানা অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন তিনি তাঁর স্বপ্নের রাজপুত্রকে খুঁজে পেয়েছেন। চিঠিতে একজন সাধারণ তরুণীর মতোই নিজের একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার, সন্তানদের জন্ম দেওয়ার এবং ভালোবেসে সংসার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন ডায়ানা। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই স্মৃতিগুলো নিজের ডেস্কে আগলে রাখার পর অবশেষে তা অন্য সংগ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্যাথরিন।
বড়দের খেলায় এক অনভিজ্ঞ তরুণী কনে নিলামে উঠতে চলা চিঠির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়ানা যখন রাজপরিবারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ছিলেন একেবারেই অল্পবয়সী ও অনভিজ্ঞ। রাজপরিবারের কঠোর নিয়মকানুন ও প্রথার মাঝে নিজেকে তাঁর মনে হতো যেন বড়দের কোনো খেলায় অংশ নেওয়া এক অবুঝ কিশোরী। চার্লসের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর রোমাঞ্চ যেমন চিঠিতে ছিল, তেমনই ছিল এক ধরনের একাকীত্ব ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার লড়াই। ডায়ানা কেবল চেয়েছিলেন রাজপরিবারে একটু ভালোবাসা ও যত্ন পেতে, যা পরবর্তী সময়ে অধরাই থেকে গিয়েছিল এবং যার ফলে এক সময় তাঁদের এই রূপকথার বিয়ে ভেঙে যায়।
স্মৃতির নিলাম ও রাজকীয় ইতিহাসের দলিল আগামী ৭ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নিলামকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে রাজকীয় স্মারক সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ডায়ানার স্কুল জীবনের অপ্রকাশিত ছবিগুলো তাঁর চঞ্চল ও যত্নশীল স্বভাবের পরিচয় দেয়, যা পরবর্তী সময়ে তাঁকে ‘জনগণের রাজকুমারী’ (পিপলস প্রিন্সেস) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, এই চিঠিগুলো কেবল কাগজের টুকরো নয়, বরং ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসের এক জটিল মোড়ের জীবন্ত দলিল, যা ডায়ানার ট্র্যাজিক জীবনের শুরুর দিকের মানসিক অবস্থা বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করবে।