কিলিয়ান এমবাপেকে আবারও তীব্র আক্রমণ প্যারাগুয়ের সেনেটরের, মরক্কো ম্যাচের আগে নতুন বিতর্ক
চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেকে লক্ষ্য করে আবারও তীব্র কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন প্যারাগুয়ের বিতর্কিত সেনেটর সেলেস্তে আমারিলা।
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে মাঠের সেই লড়াই এবার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নিয়েছে। প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিলা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর জাতিগত পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের পরবর্তী ম্যাচ মরক্কোর বিরুদ্ধে হওয়ার ঠিক আগে এই মন্তব্য ফরাসি শিবিরের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সেনেটরের একের পর এক আক্রমণ ও পুরোনো বিতর্ক
প্যারাগুয়ের এই নারী রাজনীতিবিদের এমবাপেকে আক্রমণ করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার প্রকাশ্য জনসভায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি স্ট্রাইকারের খেলার ধরন এবং তাঁর বর্ণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। এবার প্যারাগুয়ের পরাজয়ের পর তিনি সরাসরি এমবাপের ব্যক্তিত্বকে আঘাত করে লিখেছেন, মাঠের খেলায় জেতার চেয়ে অহংকার প্রদর্শন করতেই বেশি ভালোবাসেন এই ফরাসি তারকা। এই ধরনের মন্তব্যকে ফুটবল পণ্ডিতরা সম্পূর্ণ বর্ণবাদী এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতাবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ফরাসি শিবিরের প্রতিক্রিয়া ও মরক্কো ম্যাচের প্রস্তুতি
এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) বা কিলিয়ান এমবাপের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ফরাসি অধিনায়ক এই ধরনের মাঠের বাইরের মন্তব্যকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছেন। ফ্রান্সের মূল লক্ষ্য এখন কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী মরক্কোর বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করা। কোচ দিদিয়ে দেশম খেলোয়াড়দের শুধুমাত্র মাঠের কৌশলে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে এই ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে।
ফিফার সম্ভাব্য পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ফুটবলে যেকোনো ধরনের বর্ণবাদ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা সবসময়ই কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। যদিও সেলেস্তে আমারিলা কোনো ফুটবল কর্মকর্তা নন, বরং একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তবুও তাঁর এই মন্তব্য ফুটবলারদের সুরক্ষাসংক্রান্ত ফিফার নীতিমালার পরিপন্থী। লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনেও আমারিলার এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং অনেক ফুটবলপ্রেমী তাঁর এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন।