সুদ ব্যবসায়ী মর্জিনার যত কুকীর্তি

|

বেরিয়ে আসছে নাটোর শহরের ঘোড়াগাছার কুখ্যাত সুদ ব্যবসায়ী মর্জিনা বেগমের নানা অপকর্মের কাহিনী। সুদের চাপ সইতে না পেরে ইমতিয়াজ আহম্মেদ বুলবুলের আত্মহত্যার ঘটনায় মর্জিনার ভাই সাদ্দামকে আটক করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে সুদের রমরমা কারবার চালিয়ে আসছে পুরো পরিবার। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের বিপদের সুযোগ নিয়ে উচ্চ হারে সুদে টাকা দেন মর্জিনা, তার বোন হাসিনা এবং ভাই সাদ্দাম হোসেন। হাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় তারা সুদে টাকা দেন। সুদের টাকা না দিলেই মর্জিনা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মারপিট, অত্যাচার আর নির্যাতন চালাতেন।

এভাবে মর্জিনা তিনটি বাড়ি দখল করেছেন বলে জানান এলাকাবাসী। সুদ ব্যবসায়ী মর্জিনার অত্যাচারে অনেকেই বাড়িঘর বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শহরতলীর ঘোড়াগাছা গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী সুদ কারবারী মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে সুদে ২০ হাজার টাকা নেন বুলবুল। সুদসহ প্রায় তিনলাখ টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও দুই লাখ টাকা দাবি করে তার ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিল মর্জিনার বাহিনী।

শনিবার রাত ১০টার দিকে সুদ ব্যবসায়ী মর্জিনা লোকজন দিয়ে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বিবস্ত্র করে মারপিটে করে দুটি চেকে দুই লাখ টাকা লিখে স্বাক্ষর নেয় ও ভিডিও করে স্বীকারোক্তি নেয়।

সুদের টাকার চাপ সইতে না পেরে শহরের ঘোড়াগাছা আমহাটি এলাকার ওই মুদি ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ আহম্মেদ বুলবুল রোববার ভোরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নাটোরে এনে গাড়ীখানা গোরস্থানে দাফন করা হয়।

বুলবুলের ভাগিনা সোহাগ জানান, মামা মৃত্যুর আগে ব্যক্তিগত ডায়রিতে সুদ ব্যবসায়ী মর্জিনা বেগমের অত্যাচার নির্যাতনের কথা লিখে গেছেন।

নাটোর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মতিন বলেন, এ ঘটনায় মর্জিনার ভাই সাদ্দাম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। বুলবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।








Leave a reply