সব হারিয়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটছে নদী তীরের মানুষ

|

খরস্রোতা তিস্তার তীব্র ভাঙনে ২৪ ঘন্টায় ১টি মসজিদ, ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাজার ফুট পাকা সড়ক ও অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ভাঙন রোধে নামে মাত্র বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আগে-ভাগে পাউবো‘র প্রকৌশলীরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, সহায় সম্বলসহ সর্বস্ব হারিয়ে ভাঙন কবলিত পরিবারের মানুষজন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছে। ঘর-বাড়ি হারা সর্বশান্ত মানুষের আহাজারিতে এলাকার বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠছে। এছাড়া ৪ দিনের ব্যবধানে ওই এলাকার প্রায় দই শতাধিক বসত-বাড়ী, আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে গেছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর বজরা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাশিম বাজার-উলিপুর সড়কের চর বজরা এলাকার সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাকা সড়কের প্রায় ১ হাজার ফুট সড়কের বেশিরভাগ অংশ নদীতে দেবে গেছে । এর আগে রাস্তার পশ্চিমাংশে টেপরির মোড় এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে আকস্মিক ভাঙন শুরু হলে তিন দিনের ব্যবধানে প্রায় দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি, আবাদী জমিসহ চর বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদমতলা নকিয়ার পাড়া জামে মসজিদ, সাদুয়া পাড়া জামে মসজিদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদী গর্ভে চলে যায়।

শনিবার সকাল থেকে উলিপুর-কাশিম বাজার পাকা সড়কের ১ হাজার ফুট সড়কের বেশিরভাগ অংশ নদীতে দেবে যায়। ফলে উলিপুরের সঙ্গে কাশিমবাজার এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টেপরির মোড় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, শিক্ষক মজিবর রহমান, বকুল মিয়া, বন্দে আলীসহ প্রায় ছয় জনের পাকা ঘর-বাড়ি নদীর কিনারায় রয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে নির্মিত এসব পাকা ঘর-বাড়ি নদীর কিনারায় ভাঙনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এলাকার মানুষজন অভিযোগ করে বলেন, নদী প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে নদী দ্রুত কাশিম বাজারের দিকে চলে এসেছে।

এছাড়াও চর বজরা লাগোয়া পার্শ্ববতী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাশিম বাজার এলাকার নাজিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ আলিম মাদরাসা, কাশিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি মসজিদ, সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি পাকা অবকাঠামো ও বিশাল জনবসতি পূর্ণ এলাকাসহ আবাদি জমি চরম হুমকির মুখে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে জিও টেক্সটাইল ব্যাগ নিক্ষেপে বিলম্বের ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, জেলার ১ শত টি এলাকায় জরুরি কার্যক্রম চলছে, শুধু চর বজরা-কাশেম বাজার নিয়ে থাকলে তো হবে না। ভাঙন রোধে ১০ হাজার জিও টেক্সটাইল ব্যাগ সেখানে ডাম্পিং চলছে, প্রয়োজনে আরো ডাম্পিং করা হবে।








Leave a reply