সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে নওশের

|

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মানুষের দোয়া ও চেষ্টাকে ব্যর্থ করে চলে গেলেন নওশেরুজ্জামান। ইবনে সিনা হাসপাতালে এক সপ্তাহেরও বেশি লাইফ সাপোর্টে থাকলেও স্বাধীনবাংলা দলের এই ফুটবলারের অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত অক্সিজেন স্যাচুরেশন শুন্যতে নেমে এলে আজ সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও তার অবস্থা কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। শেষে ইবনে সিনায় স্থানান্তর করে মোহামেডানের এই তারকাকে রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে। পরিবারের সঙ্গে যোগ হয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক চেষ্টা। সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করে তাঁকে সুস্থ করার নির্দেশনা ছিল।

কিন্তু চিকিৎসকের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে ৭২ বছর বয়সী ফুটবলযোদ্ধা ইহলোকের পাঠ চুকিয়ে ফেলেন। এদিকে তার স্ত্রীও করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরেক হাসপাতালে। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-পরিজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হবে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। এই দলটি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামে পরিচিত ছিল।পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।[১] বর্তমানে ফিলিস্তিন ফুটবল দল এ ধরনের তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠন করছে।

৭১ সালের জুন মাসে দলটি গঠিত হয়। প্রথম দিকে কয়েকজনকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কথা উল্লেখ করে মুজিবনগর গিয়ে তাতে যোগ দিতে বলা হয়। এসময় মুজিবনগরে প্রথমে গিয়ে উপস্থিত হন প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, সাইদুর রহমান প্যাটেল, শেখ আশরাফ আলীসহ আলী ইমাম এবং অন্যরা। এরপর সেখান থেকে আকাশবাণীতে (কলকাতা রেডিও) ঘোষণা দেয়া হলো বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত খেলোয়াড়দের মুজিবনগরে রিপোর্ট করার জন্য। ঘোষণার পরে ৪০ জন খেলোয়াড় মুজিবনগর ক্যাম্পে যোগ দেন। সেখান থেকে ৩০ জন বাছাই করে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠন করা হয়। পরে আরো একজনকে অন্তর্ভুক্ত করলে সদস্য সংখ্যা ৩১ হয়। সে দল ২৩ জুলাই মুজিবনগর থেকে নদিয়া পৌঁছে। নদিয়ার ডিসি দীপককানত্ম ঘোষ এবং স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তারা দলটিকে অভ্যর্থনা জানান। ২৫ জুলাই কৃষ্ণনগর স্টেডিয়ামে নদিয়া একাদশের বিপক্ষে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রথম খেলতে নামে। এই দিন মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ম্যাচ উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে আসে। খেলা শুরুর আগে জাতীয় পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন দলের সদস্যরা। এ সময় জাতীয় সঙ্গীতও বাজানো হয়। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। স্বাধীন বাংলা দলের হয়ে প্রথম গোল করেন শাহজাহান। স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর দায়ে পরদিন নদিয়ার ডিসিকে চাকরিচ্যুত করা হয়।








Leave a reply