শহরের খাল পরিষ্কার করে পাওয়া যাচ্ছে নষ্ট ফ্রিজ-টেলিভিশন-সোফা!

|

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার ‘গোদাগাড়ি খাল’ পরিষ্কারে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। বুধবার (৭ অক্টোবর) পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ময়লার স্তূপ জমে পুরো খাল পরিণত হয়েছিল ডাস্টবিনে। এ কারণে দেখে বোঝার উপায় ছিল না এটি খাল! এতে পানি চোখে পড়তো না। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় তলদেশে মাটি জমে উঁচু হওয়ায় পানির গভীরতা খুব কম।

খাল পরিষ্কার করে পাওয়া গেছে নষ্ট ফ্রিজ, টেলিভিশন, বাথরুমের কমোড, স্যুটকেস, স্কুল ব্যাগ, গাড়ির টায়ার, বালিশ, সোফা, জাজিম, তোশক, চেয়ার ও বড় পানির বোতল। প্রতিটি জিনিসের নাম লিখে ডিএনসিসি এগুলো প্রদর্শনী করেছে।

ডিএনসিসি’র কার্যক্রম দেখতে আশপাশের শত-শত মানুষ ভিড় করে। খালে পানি দেখে খুশি এলাকাবাসী। গরম থেকে স্বস্তি পেতে ময়লা পানিতেই শরীর ভিজিয়ে নেয় কয়েকটি কুকুর।

গোদাগাড়ি খাল পরিষ্কারের কাজ দেখতে এসেছেন স্থানীয় তরকারি বিক্রেতা মোস্তাফিজার। ২৮ বছর ধরে এখানে তার বসবাস। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৮ বছর আগে এই খাল তিন গুণ বড় ছিল। দুই পাশে মাটি ফেলে ভরাট করে দেয়াল তুলে দখলের কারণে এমন দুরবস্থা হয়েছে। একযুগ ধরে বর্ষাকাল ছাড়া খালে পানি দেখা যায় না। মেয়র পরিষ্কার করতে এসেছেন শুনে দেখতে এসেছি। এখন দেখার বিষয় কতদিন এটি পরিষ্কার থাকে।’

খালের পাশে আধাপাকা একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে সাত বছর ধরে ভাড়া থাকেন রোকসেনা বেগম। তিনি দেখেছেন, গোদাগাড়ি খালে সারাবছর ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে। ময়লার কারণে বর্ষাকাল ছাড়া পানি চোখে পড়েনি তার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগেও এক-দুইবার খালটি পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু একমাস যেতে না যেতেই আবারও ময়লার কারণে ভরাট হয়ে যায়। এ কারণে সবসময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। আমরা গরিব মানুষ, বাসা ভাড়া কম বলে এখানে থাকি।’
একই অভিযোগ আকলিমার, ‘সবসময় খালে কুকুর-বিড়াল কিংবা ইঁদুর মরে পচে থাকতো। দুর্গন্ধের কারণে ঘরের দরজা খোলা রাখা যেত না। আমরা কিন্তু খালে ময়লা ফেলি না। আমাদের ময়লা প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা এসে নিয়ে যায়। এজন্য প্রতিমাসে ২০০ টাকা দিতে হয় তাদের।’

স্থানীয়দের মন্তব্য, খাল পরিষ্কার রাখার স্থায়ী সমাধান পেতে অবৈধ বাড়িঘর উচ্ছেদ করতে হবে। তাদেরই একজন সিরাজুল ইসলাম। তার মন্তব্য, ‘কিছু লোকের কারণে খালের এই অবস্থা। তারা এটি ভরাট করে ঘর-বাড়ি বানিয়ে ভাড়া তুলে খাচ্ছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করলে কয়েকদিন পর সেই আগের মতোই ময়লার স্তূপ দেখা যাবে।’

মিরপুরে গোদাগাড়ি খাল পরিষ্কার করে নষ্ট ফ্রিজসহ অনেক কিছু পাওয়া গেছে
ডিএনসিসি’র আওতাধীন ঢাকা ওয়াসার খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু হয় গত ২ অক্টোবর। এ প্রসঙ্গে বুধবার ডিএনসিসি মেয়র জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৯টি খাল থেকে শতাধিক জাজিম, ২০০ ট্রাক ডাবের খোসা, টিভির খোলস, বালিশ, ভাঙা ফ্রিজ, স্যুটকেস, বালিশ, ভাঙা চেয়ার ও কমোড পাওয়া গেছে।

আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১৬টি খাল পরিষ্কার করবে ডিএনসিসি। প্রতিটি খাল পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের ৫১০ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে।








Leave a reply