রেগে আগুন নেটিজেনরা গুচি ব্র্যান্ডের কুর্তির দাম আড়াই লক্ষ টাকা!

|

আড়াই লাখি কাফতান ঘিরে বিতর্কের মহাসমুদ্রে ইতালীয় পোশাক ব্র‌্যান্ড ‘গুচি’ (GUCCI)। খবরের নির্যাস বলতে ব্যস এইটুকুই! তবে তা নিয়ে তৈরি হওয়া বাদানুবাদের জল কিন্তু বেশ অনেক দূরই গড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে এই উত্তর জানতে, যে কাফতানই বলুন বা ভারতীয় সংস্করণে কুর্তা, ঠিক কোন মানদণ্ডে ভর করে, এর মূল্য একলাফে লাখের আকাশ ছোঁয়?

সূত্র পেতে বরং আগে পোশাকের বর্ণনা জেনে নেওয়া যাক স্বয়ং সংস্থারই বয়ানে। গুচি লিখেছে, “ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত এটি একটি ফ্লোরাল এমব্রয়ডারি করা, অরগ্যানিক লিনেনের কাফতান। সঙ্গে থাকছে সেলফ-টাইল টাসেল। এই কাফতান প্রথম লঞ্চ হয়েছিল গুচির ১৯৯৬ কালেকশনের অঙ্গ হিসাবে। সনাতনী সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে এবার জুড়েছে আধুনিক ডিটেলিং। নজরকাড়া লেয়ারিং, ট্র‌্যাকসু্যট পিসের মিশেল এই পোশাককে দিয়েছে অভিনবত্ব। এতে যেমন পাবেন ষাট-সত্তরের দশকের ছোঁয়া, তেমনই দেখা যাবে হিপ্পি কালচারের আদল। নরম, তুলতুলে মেটিরিয়াল পরেও মিলবে আরাম। নতুনত্ব হিসাবে যোগ করা হয়েছে ইন্টারলকিং জি মোটিফ আর স্ট্রাইপ চেন প্রিন্ট।”

কিন্তু এই বিবরণে মোটেও খুশি নন নেটাগরিকরা। ব্র‌্যান্ডের নাম এবং পোশাকের (Fashion) বিবরণ জেনে উৎফুল্ল হলেও, উৎসাহের বেলুন চুপসে গিয়েছে সঙ্গের ছবিটি দেখে। সেই ছবিতে কাফতান বা কুর্তাটিকে মোটেই আহামরি কিছু মনে হচ্ছে না। বরং স্থানীয়ভাবে পোশাকের এই ‘লুক’টি বহুলপরিচিত এবং দৃষ্ট। তাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই ‘সাধারণ’ দেখতে পোশাকের দাম কী করে ২,১০০ মার্কিন ডলার (১.৫ লক্ষ টাকা) থেকে ৩,৫০০ মার্কিন ডলার (২.৫ লক্ষ টাকা) হতে পারে? মাথা চুলকাতে চুলকাতে এই প্রশ্নটাই করছেন নেটিজেনরা। তাদের বক্তব্য, গুচির মতো বিশ্বপ্রসিদ্ধ ব্র‌্যান্ডনেম তো ঠিক আছে। কিন্তু তাও, দাম লাখের কোঠায় ওঠে কোন যুক্তিতে? সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নেটিজেন লিখেছেন, “গুচি ইন্ডিয়ান কুর্তা বিক্রি করছে ২.৫ লাখে? আমি তো ৫০০ টাকায়, ঠিক এই জিনিস, সামনের বাজার থেকে পেয়ে যাব!” আবার আরেক জন লিখেছেন, “এটা পাগলামির উৎকৃষ্ট নমুনা।” এক টুইটারেত্তির বক্রোক্তি, “এই সাদামাটা কুর্তাটার জন্য ২০০ টাকার এক পয়সা বেশি দেব না। আমার আলমারিতে এরকম ১০টা কুর্তা পড়ে আছে।” আরেকজনের মন্তব্য, “আরে, দেড় হাজার টাকারও কমে এরকম ৫০টা কুর্তা কিনে নিতে পারব।”

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন এই নিয়ে? বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক দত্তের অভিমত, “ব্র‌্যান্ড-নেম হিসাবে গুচি এতদিন ধরে বাজারে সুপ্রতিষ্ঠিত। সবাই এককথায় চেনে। এমনকী, এ দেশেই এমন অনেক ক্রেতা আছেন, যাঁরা এই পোশাক, এত দাম দিয়ে কিনতে চাইবেন শুধুমাত্র ‘গুচি’ নামটা সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য, দেখানোর জন্য।” কিন্তু এমন ‘সাধারণ’ কুর্তার এত দামের কারণ কী? শুধুই কি ব্র‌্যান্ডনেম?

উত্তরে, অভিষেক দত্তের বিশ্লেষণ, “ব্র‌্যান্ড-নেম তো একটা কারণ বটেই। তবে এই দামের পিছনে নিশ্চয়ই কোনও অভিনবত্ব রয়েছে। আমাদের দেশে তো ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের শাড়ি ২ লক্ষেও বিক্রি হয় আবার তার ‘কপি’ বিক্রি হয় ২ হাজারে। তাই আগে দেখতে হবে, এই পোশাকে এমন কী স্বকীয়তা আছে, যে এত দাম ওরা চাইছে। যদিও ডিজাইনার হিসাবে আমি মনে করি, গুচির মতো নামজাদা ব্র‌্যান্ডের উচিত, নিজস্ব স্টাইল এবং ‘ওরিজিনাল ক্রিয়েশন’-এর (যার জন্য তারা বিখ্যাত) দিকেই নজর দেওয়া। অন্যরকম করতে গিয়ে এমন কিছু তৈরি করা ঠিক নয়, যা মানুষ দেখলে ভাববে ‘এই জিনিস তো আমি আরও কমে পেয়ে যাব’। এতে ওদেরই ক্ষতি হতে পারে। ‘ভ্যালু ফর মানি’ তো সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই ধরনের ক্র‌্যাফ্টসম্যানশিপ একজন ভারতীয় ডিজাইনার খুব সহজেই করতে পারবেন, তাছাড়া অনেক কম দামে ভারতীয় সেলাররা, এমন জিনিস ক্রেতাদের হাতে তুলেও দিতে পারবেন।”








Leave a reply