রিজার্ভে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম

|

রেমিট্যান্স ও বিদেশি ঋণের জোয়ারে করোনা সগ্ধকটের মধ্যেও একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। প্রথমবারে মতো দেশের রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার বা চার হাজার কোটি ডলারের মাইলফলম অতিত্রক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। বুধবার যা ছিল ৩৯ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। করোনার প্রভাব শুরুর পর ৬ মাসে এ নিয়ে রিজার্ভ বাড়াল প্রায় ৭৬১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সহৃত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি কমলেও রপ্তারি ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। আবার করোনা সগ্ধকটের মধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা থেকে প্রচুর ঋণ পাচ্ছে সরকার। এতে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে রিজার্ভ হুহু করে বাড়ছে। বাংলাদেশে করোনার প্রভাব শুরুর পর গত মার্চ শেষে যেখানে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে ছয় মাসে ৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন তথা ৭৬১ কোটি ডলার বেড়ে এ পর্যায়ে এসেছে। এভাবে রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে এখান থেকে প্রকল্কপ্প ঋণের সম্ভ্যাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে প্রবাসী আয় কমেছিল। তবে এরপর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে ব্যাপক ভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা ৬৭১ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২১৯ কোটি ডলার বা ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। তিন মাসে আগে কখনো এতো রেমিট্যান্স আসেনি। তিন মাস কমার পরও এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান প্রবাসীরা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় যা ১৭৯ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, রেমিট্যান্স ব্যাপক বৃদ্ধি এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদানের কারণে এভাবে রিজার্ভ বাড়ছে। তবে কতোদিন রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এ ধারা ঠিক থাকবে তা নিয়ে প্রশু আছে। আবার রিজার্ভ বৃদ্ধি সবসময় ভালো তা নয়। দেখতে হবে রিজার্ভের অর্থ কীভাবে কাজে লাগানো যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের মতো প্রবাসীদেরও অনেকে বেকার হয়েছেন। আয় কমেছে অনেকের। এর মধ্যেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হুন্ডির চাহিদা একেবারে কমে যাওয়া। মূলত বিশ্বের সব দেশে এখন সেভাবে বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় যারা হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসীদের ডলার কিনে নেন তারা কিনছেন খুব সামান্য। আবার সরকারের ২ শতাংশ হারে প্রণোদনার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ভালো দাম মিলছে। এর বাইরে একটা শ্রেণী জমানো টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আবার এয়ার চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় সঙ্গে ডলার আনার প্রবণতা কমেছে। এসব কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়ের বেশিরভাগই এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে আসছে। এসব কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে। যদিও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এ প্রবণতা কতোদিন থাকবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৮০৩ কোটি ডলারের আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। অথচ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রপ্তানি আয় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৯৯০ কোটি ডলার দেশে এসেছে। আবার বিদেশ থেকে প্রচুর ঋণ পাচ্ছে সরকার। সব মিলিয়ে রিজার্ভ এভাবে বাড়ছে।








Leave a reply