মৌলভীবাজারে বাগানে বাগানে গাছজুড়ে কফি ফলের সমারোহ

|

সরকারিভাবে রাবার চাষে নিষেধাজ্ঞা জারি করাতে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কফি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কফি গাছ লাগিয়ে ব্যাপক সফলতা অর্জিত হয়েছে। পরিপক্ক কফি গাছে এখন ফলের সমারোহ। এ থেকে কাঙ্খিত সুফল আসলে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে কফি চাষের কথা জানান চায়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা বাগান মালিকরা। তবে এ অঞ্চলে কফি চাষ সম্প্রসারণে কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানা গেছে। কৃষি বিভাগ কফি চাষ সম্প্রসারণের লক্ষে এরইমধ্যে বেশকিছু চারা আগ্রহী চাষীদের মধ্যে বিতরণ করেছে।

দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা অত্যন্ত দামি ও জনপ্রিয় পানীয় হচ্ছে কফি। সব বয়সী মানুষের কাছে রয়েছে এর কদর। সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে চায়ের দাম পড়ে যাওয়া ও রাবার চাষে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চা-বাগানে চাষ হচ্ছে কফি।

মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলার মাথিউরা চা-বাগান জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ইবাদুল হক জানিয়েছেন, চায়ের পাশাপাশি ২০১৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে বাগানে কফি চাষ করা হয়। এতে চা-বাগানের খালি জায়গা ও বাংলোর সড়কের পাশে ১০ হাজার কফি গাছের চারা লাগানো হয়। অ্যারাবিক জাতের এ কফি গাছগুলো কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন এক একটি পরিপক্ক বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। সেই সাথে গাছজুড়ে এখন ফলের সমাহার।

বাগান ব্যবস্থাপক আরো জানান, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করার সময়। এরপর তা গুঁড়ো করে রোদে শুকিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে চায়ের মতো কফি প্রস্তুত করতে হয়।

তিনি বলেন, চায়ের মতো মেঝেতে বিছিয়ে শুকানোতেই এর প্রকৃত রং ও ফ্লেবার চলে আসে। বিশ্বের বাজারে এ পদ্ধতিতে পাওয়া কফির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দামও অনেক।

চা-বাগানের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, চা-গাছে ছায়াবৃক্ষের খুবই প্রয়োজন। নতুবা চা গাছ মারা যায়। সেই সাথে সেচ এবং সময় মতো চা-গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ করতে হয়। পরিমিত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রারও প্রয়োজন পড়ে। এতে খরচাপাতি অনেক বেশী। এদিকে কফি গাছ একবার লাগালে দ্বিতীয়বার আর কোন কাজ থাকে না। এতে সবদিক দিয়ে লাভবান হওয়া যায় সহজে।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে চা বিক্রিতে বেশি লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। কারণ এককেজি চা উৎপাদনে খরচা কম করে হলেও দুইশো থেকে আড়াই শো টাকা লাগছে। এ অবস্থায় বাজারে চায়ের দাম পড়ে যাওয়াতে এক কেজি একশো বিশ থেকে দেড় শো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে চা বাগানমালিকরা লাভবান হতে পারছেন না। যার ফলে কম খরচে অধিক লাভের আশায় কফি চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা। মাথিউরা চা-বাগানের প্রায় ষোল হেক্টর জমিতে কফি চাষ করা হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি কফি গাছ থেকে তিনশো গ্রাম কফিফল পাওয়া যাবে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এ অঞ্চলে কফি সম্প্রসারণে কৃষিমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে কৃষি বিভাগও কাজ করছে। এরইমধ্যে কৃষি বিভাগ অ্যারাবিক জাতের বেশকিছু কফি গাছের চারা বিতরণের কথা জানিয়েছে।








Leave a reply