মাদারীপুরে আটকা পড়েছেন ৫ হাজার প্রবাসী

|

মাদারীপুরে করোনাকালে দেশে ছুটি কাটাতে এসে আটকা পড়া ৫ হাজার প্রবাসীর কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। ইতোমধ্যে কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, আবার কেউ কেউ হারিয়েছেন চাকুরিও। এদিকে বিদেশে না যেতে পারা এসব প্রবাসীরা চাইলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলার কথা জানায় জেলা প্রশাসন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালি থেকে দেশে ফেরেন মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর কুচিয়ামারা গ্রামের সুমন মাতুব্বর। কিন্তু ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও করোনার জন্য যেতে পারছেন না কর্মস্থলে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে পরিবার নিয়ে পড়েছেন চরম দুঃচিন্তায়, বাড়ছে হতাশাও।

ইতালি প্রবাসী সুমন মাতুব্বর বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। এইভাবে চললে তো সমস্যার মধ্যে পড়ে যাব।

ফেব্রুয়ারি মাসে দুই সপ্তাহের জন্য পুরো পরিবার নিয়ে দেশে এসে আটকা পড়েছেন ইতালীর মুদি ব্যবসায়ী বাদল মোল্লা। বিদেশে দোকান বন্ধ, অথচ প্রতিমাসে তাকে দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ গুণতে হচ্ছে এক লাখ টাকা।

ইতালি প্রবাসী বাদল মোল্লা বলেন, আমি এখানে আটকা পড়ে থাকলেও আমাকে এক লাখ টাকা দিতে হচ্ছে।

একই অবস্থা পাশের আজমল হাওলাদার, লিটন মাতুব্বর, সাহাবুদ্দিন হাওলাদারসহ জেলায় আটকা পড়া ৫ হাজার প্রবাসীর। তারা চান দ্রুত চালু করা হোক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল।

অবশ্য, করোনাকালে আটকা পড়া প্রবাসীরা চাইলে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলা হবে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ড্রাইভিং কেউ করতে চাইলে আমরা তাকে ট্রেনিং দিতে পারি। এতে করে সে বাইরে বা দেশেও চাকরি পেতে পারেন।

প্রবাসীদের এসব সমস্যা নিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ। রেমিটেন্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দেশের সকল অঞ্চল হতে কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সকল অভিবাসী কর্মীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এটি প্রবাসী বাংলাদেশী এবং প্রবাসী কর্মীদের তথ্য, সহযোগীতা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।








Leave a reply