মহামারি যাদের জন্য আর্শীবাদ

|

বেকারত্ব বাড়ছে, বাড়ছে দারিদ্র্যও। সেই সঙ্গে বাড়ছে দেশের ঋণ আর মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ। করোনা তাণ্ডবে উন্নত বিশ্বের উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিরও বেহাল দশা। কিন্তু কোন ভোগান্তিই যেন ছুঁতে পারেনি দেশটির কোটিপতিদের। উল্টো মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন থেকে শুরু করে গেল ৬ মাসে দফায় দফায় বেড়েছে তাদের অর্থের পরিমাণ। ফোর্বস ম্যাগাজিনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

করোনা মহামারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েই যাচ্ছে কোটিপতিদের অর্থের পরিমাণ। মার্চ থেকে শুরু হওয়া পুরো লকডাউনের সময়টায় দেশটির ৬৪৩ কোটিপতির অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৮৪ হাজার ৫শ’ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে এখন বিলিওনিয়ারদের মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। হিসেবে দেখা যায়, মাসে ১৪ হাজার কোটি ডলার, দিনে প্রায় ৫শ’ কোটি ডলারের মালিক হন এই কোটিপতিরা।

অনলাইন জায়ান্ট অ্যামাজানের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস, যিনি আগে থেকেই কোটিপতি, করোনার লকডাউনে তার ঝুলিতে গেছে সবচেয়ে বেশি অর্থ। সংকট শুরুর পর তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৩শ’ কোটি ডলার। দফায় দফায় বেড়ে এখন তা ১৮ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার। এর মধ্যে জুলাই মাসে একদিনেই অ্যামাজানের আয় হয়েছে ১ হাজার কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ রবার্ট রিক বলেন, মহামারির মধ্যে যদি অ্যামাজান প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১ লাখ ডলার করে বেতন দেন, তবুও মহামারির পরে কোটিপতিই থাকবেন জেফ বেজস।

মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার। টেসলা ও স্পেস-এক্স প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ মহামারিতে বেড়ে ৯ হাজার ২শ’ কোটি ডলার হয়েছে, ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের মোট সম্পদের পরিমাণ হয়েছে ১০ হাজার কোটি ডলার। করোনা মহামারিতে আর্শীবাদপুষ্ট হয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি এলিসন এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি মেয়র মিশেল ব্লুমবার্গও।

অথচ মহামারিতে দেশটির (যুক্তরাষ্ট্র) অবস্থা হয়েছে ১৯৩০ সালের গ্রেট ডিপ্রেশনের মতো। বেকারত্ব হার বেড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ ছুঁয়েছিল। বেকারত্ব কমায় বেকারভাতা কমেছে কমেছে কিন্তু এখনও তা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৪ গুণ বেশি। কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা নিয়ে বেকারভাতাসহ সাধারণ মানুষকে নানা প্রণোদনা দিতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন সরকার।

ডেমোক্রেট সিনেটরদের হিসেব অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে বছরের শেষ নাগাদ কোটিপতিরা যদি নিয়মিত নির্ধারিত কর পরিশোধ করেন, তাহলে মার্কিনিদের স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় মেটানো সম্ভব। এক্ষেত্রে, বেজসের ৪ হাজার ২শ’ এবং মাস্কের ২ হাজার ৭শ’ কোটি ডলার এককালীন কর পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু দেশটির কোন কোটিপতিই নিয়মিত এবং নির্ধারিত কর পরিশোধ করছেন না। সিনেটররা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ আর্থিক অসমতা দূর করতে কোটিপতিদের সম্পদের কর পরিশোধ করা খুব জরুরি।








Leave a reply