মসজিদে বিস্ফোরণ: বাঁচার আকুতি দগ্ধ ৫ জনের

|

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন দগ্ধরা যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তাদের একটিই প্রার্থনা, সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার। স্বজনের কাছে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন তারা। স্বজনরা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পাঁচজন রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৩৭ জন মুসল্লি দগ্ধ হন। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মামুন নামে একজন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। এখনও পাঁচজন চিকিৎসাধীন। তারা হলেন- মো. সিফাত, আমজাদ হোসেন, মো. ফরিদ, আবদুল আজিজ ও কেনান হোসেন।

সিফাতের বাবা আরিফ হোসেন স্বপন শনিবার সমকালকে বলেন, আইসিইউতে রোগীর কাছে সবসময় যাওয়া-আসা করা নিষেধ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে স্বজনকে যেতে দেওয়া হয় রোগীর কাছে। এ কারণে হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে অবস্থান করছেন তারা। তিনি বিকেল ৪টায় সিফাতের সঙ্গে আইসিইউতে দেখা করেছেন। নিজ হাতে ছেলেকে স্যুপ খাইয়েছেন। সিফাত তাকে যন্ত্রণার কথা জানিয়েছে। হাত ধরে বলেছে, তার খুব কষ্ট হচ্ছে। সে বাঁচতে চায়। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে চায়।

দগ্ধ আমজাদ হোসেনের স্ত্রী তানজিলা আক্তার জানান, তার স্বামীর পিঠ, বুক, দুই হাত, গলা ও মুখ পুড়ে গেছে। শনিবার বিকেলে তিনি স্বামীর কাছে গেছেন। তাকে তরল খাবার খাইয়েছেন। তানজিলা বলেন, ‘আমার স্বামীর শরীর জ্বলছে। রাতে ঘুম আসে না ঠিকমতো। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। বাঁচবে কিনা জিজ্ঞাসা করছে। দোয়া করতে বলছে সবাইকে।’

দগ্ধ আব্দুল আজিজের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, তার স্বামীর কোমরের ওপরের অংশ দগ্ধ হয়েছে। গতকাল বিকেল ৫টায় তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাকে কাছে পেয়ে আজিজ জানিয়েছেন, এত যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছেন না।

শনিবার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, ভর্তি পাঁচজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। তবে শঙ্কামুক্ত নন। তাদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।








Leave a reply