ভারতের মিডিয়াকে চীনের হুঁশিয়ারি

|

ভারতের চীনা দূতাবাস এক নজিরবিহীন চিঠি পাঠিয়ে সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, তারা যেন বেইজিং সরকারের অনুসৃত ‘ওয়ান চায়না’ বা ‘এক চীন’ নীতি থেকে বিচ্যুত না হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের মাত্র দিন তিনেক আগে পাঠানো ওই চিঠিতে ভারতের মিডিয়াকে চীন বলেছে, তাইওয়ানকে যেন কিছুতেই একটি আলাদা ‘দেশ’ বলে উল্লেখ না করা হয় এবং তাইওয়ানের নেতাকেও যাতে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত না করা হয়।

চীনা দূতাবাসের চিঠি পাওয়ার পর ভারতের বড় বড় মিডিয়া হাউজ বা সংবাদপত্র গোষ্ঠীগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত কয়েক মাস ধরেই ভারত-চীন সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা চলছে, জুন মাসে লাদাখে চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণও হারিয়েছেন। তার মধ্যেই এই প্রথমবারের মতো চীনের পক্ষ থেকে ভারতীয় মিডিয়াকে এই ধরনের চিঠি দেয়া হলো। দিল্লিতে চীনা দূতাবাসের প্রেস সেকশন থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাইওয়ান “চীনের সার্বভৌম ভূখণ্ডের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ”।

প্রতি বছরের ১০ অক্টোবর তাইওয়ান তাদের জাতীয় দিবস পালন করে থাকে। ১৯৯১ সালের এই দিনটিতেই সেখানে য়ুচাং সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল, যার মাধ্যমে চিং রাজবংশকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র জন্ম হয়। বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, তাইওয়ানের সেই জাতীয় দিবস উদযাপনের ঠিক তিনদিন আগে, বুধবার ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের কর্ণধার বা সাংবাদিকরা চীনা দূতাবাসের কাছ থেকে ওই চিঠি পেয়েছেন।

মাস তিনেক আগেও ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েডংও ভারতীয় মিডিয়াকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির সুরেই বলেছিলেন, তারা যেন ভারতকে ‘এক চীন’ নীতির পুনর্বিবেচনা করার জন্য সওয়াল না করে।

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরই ভারতীয় মিডিয়ায় লেখালেখি শুরু হয়েছিল, চীনকে চাপে ফেলতে দিল্লির উচিত তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো। তবে ‘এক চীন’ নীতি মানাটা বেইজিংয়ের কূটনীতির এক কঠোর শর্ত—যেসব দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাতেই চীন বিশ্বাস করে না। এই প্রেক্ষাপটেই চীনা রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েডং জুলাই মাসে এক ওয়েবিনারে মন্তব্য করেন, “তাইওয়ান, হংকং বা দক্ষিণ চীন সাগরে সীমান্ত বিরোধ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে- যা আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে।”

ভারতের সঙ্গে তাইওয়ানের এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে দিল্লি ও তাইপেই-তে দুপক্ষেরই ‘বাণিজ্যিক কার্যালয়’ বা ট্রেড অফিস আছে, যা কার্যত পরস্পরের দূতাবাস হিসেবেই কাজ করে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, তাইওয়ানের জাতীয় দিবসে (১০ অক্টোবর) এবার দিল্লির বিভিন্ন খবরের কাগজেই তাদের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেওয়ার বা বিজ্ঞাপনী ক্রোড়পত্র সংযুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। কোভিড মহামারিতে আর্থিক সংকটে থাকা সংবাদপত্র শিল্পের জন্য সেই বিজ্ঞাপন খুব প্রয়োজনীয় কোনও সন্দেহ নেই। তবে চীনের হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করলে ভারতে সক্রিয় নানা মোবাইল ফোনসহ চীনা কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন তাদের হারাতে হতে পারে, এটাও মিডিয়া হাউজগুলোকে খেয়াল রাখতে হচ্ছে।








Leave a reply