ভাঙনে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন

|

নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর পানি কমতে শুরু করায় ব্যাপকভাবে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার আত্রাই নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফাটল এবং পাড় ধসের ঘটনা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও অদ্যাবধি কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে ভুক্তভোগীরা জানান। সচেতন মহলের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে দিন দিন এ নদীভাঙনের প্রকোপ বাড়ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকরী কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় উপজেলা সদরের আত্রাই নদীর নবনির্মিত ঢালাই ব্রিজটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিজ সংলগ্ন পশ্চিম প্রান্ত থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপকভাবে আত্রাই নদীর পাড় ধসে পড়ছে।

গত ৫ দিনে উপজেলার আত্রাই নদীর তীরবর্তী কুঞ্জবন বাজার এলাকার প্রতাপ হালদার, প্রদীপ হালদার, সন্তোষ হালদারের বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া উপজেলার নদীর তীরবর্তী শত শত ফসলি জমি এবং ফলজ ও বনজ বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে উপজেলা সদরের রনজয়তলা, বুড়াশিবতলা, লক্ষ্মনপুর, কুঞ্জবন, নুরপুর, সমাসপুর, শিবগঞ্জ বাজার এলাকা এবং রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আত্রাই নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ও পাড়ে ব্যাপকভাবে ধস নামাসহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলে সম্প্রদায়ের লোকজনদের পুনর্বাসনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এদিকে ধামইরহাটে আত্রাই নদীর বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। প্রায় ১০০ মিটার জায়গা ধসে যাওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে লোকালয় এবং হাজার হাজার একর আমন ধান ও সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আত্রাই নদীর রাঙ্গামাটি জামুরঘাট (লেবুতলা) এলাকার রাস্তা সংলগ্ন বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার এলাকার মাটি পানিতে ধসে গেছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ-কাম রাস্তা ভেঙে যেতে পারে। ছালিগ্রামের কৃষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, এ বাঁধ ভেঙে গেলে প্রায় ২০-২৫ গ্রামের বাড়িঘর ও হাজার হাজার একর জমির আমন ধান ও সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে রাঙ্গামাটি থেকে পত্নীতলা উপজেলা সদরের যাওয়ার রাস্তাটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলজিইডির ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলী হোসেন বলেন, আত্রাই নদীর বাঁধ ধসে গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি ভেঙে যেতে পারে। এতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারে। এলজিইডির পক্ষ থেকে রাস্তাটি প্রশস্ত করাসহ পাকাকরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।

এ ব্যাপারে ওই এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জোয়ারদার মো. আসাদুল্লাহ বলেন, আমাদের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে নদীর পানি কমতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বাঁধটি রক্ষার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া ধামইরহাটের শিমুলতলী থেকে মহাদেবপুর উপজেলার কালনা পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাস হয়েছে। বন্যার কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। নদী ড্রেজিং করতে পারলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।








Leave a reply