ভরা মৌসুমে বাংলাদেশকে পেঁয়াজ দিতে চায় ভারত

|

২০১৯ সালে হঠাৎ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। সেইসময় দেশের বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দর ওঠে ২৬০ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস উঠে ভোক্তাদের। বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায় সরকার। ভবিষ্যতে এমন সংকটময় পরিস্থিতি এড়াতে রপ্তানি বন্ধের আগে বিষয়টি বাংলাদেশকে জানাতে ভারতকে অনুরোধ করে সরকার। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখেনি প্রতিবেশ দেশটি।

গেল বছরের মতো এবারও হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত। সরবরাহ সংকটে দেশের বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছাড়ায় ১০০ টাকা। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চীন, মিশর’সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে সরকার।

এর পাশাপাশি বাজারে উঠতে শুরু করেছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ। পাইকারি পর্যায়ে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। পুরনো দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি পড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

প্রয়োজনের সময় পেঁয়াজ না দিলেও মৌসুমের আগে আবারো নিত্যপণ্যটির রপ্তানি অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেন ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) কৃষি খাত নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গয়াল বলেন, ভারতে মজুদ সংকটের কারণে পেঁয়াজ রপ্তানি নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তবে অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে বাংলাদেশে ভারত পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি অব্যাহত রাখবে।

তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাফ জানালেন, পেঁয়াজ নিয়ে আগামী বছর থেকেই ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না বাংলাদেশকে। পেঁয়াজ উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে এখন বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, আমরা চিন্তা করছি পেঁয়াজের নতুন জাত নিয়ে। কৃষিমন্ত্রীর সাথে এ নিয়ে বৈঠক করেছি। চাষিরা ভালো দাম পেয়েছে। এর ফলে ১৩-১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়তি উৎপাদন হচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজের জন্য কারো দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে না।

বাংলাদেশের কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩০ লাখ টনের মতো। ২০২০ সালে বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টন। তবে এই উৎপাদন থেকে গড়ে ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দেশে মোট পেঁয়াজের উৎপাদন গিয়ে দাঁড়ায় ১৮ থেকে ১৯ লাখ টনে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ফজলে ফাহিম এবং অনলাইনে যুক্ত হন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গয়াল, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দ্বোরাইস্বামী’সহ আরো অনেকে।








Leave a reply