বাড়ির আঙ্গিনায় গাঁজার চাষ, দুই সহোদর আটক

|

আড়াইহাজারে গাঁজা চাষ করার অভিযোগে থানা পুলিশ কাকাইলমোড়া এলাকা থেকে বড় আকারের দুটি গাঁজা গাছসহ দুই সহোদরকে আটক করেছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি বাড়ির পাশে খোলা একটি স্থানে প্রকাশ্যে গাঁজা চাষ করছিলেন দুই সহোদর। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আড়াইহাজার থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ গাঁজা চাষীদের আটক করেছে।

আটককৃতরা হলেন- খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত সামছুউদ্দিনের দুই ছেলে গোলাম রসুল (৫৫) ও মোস্তফা (৬০)। এ সময় পুলিশ বড় আকারের দুইটি গাঁজার গাছ উদ্ধার করে। গাছ দুইটি ঝোঁপ প্রজাতির ১৭ ফুট লম্বা বলে জানায় পুলিশ।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাকাইলমোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে দুই সহোদরকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের বাড়ির পাশে একটি খোলা স্থানে চাষকৃত দুইটি বড় আকারের গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছিল। তবে ওসি বলেন, এলাকায় আরো গাঁজা চাষ হচ্ছে কিনা তার খোঁজ চলছে।

গাঁজা (/ˈkænəbɪs/, ইংরেজি: Cannabis) মূলত সপুষ্পক উদ্ভিদের গণ, যেখানে সাতিভা গাঁজা,[২] ইন্ডিকা গাঁজা এবং রুডের্লাইস গাঁজা[১], এই তিনটি ভিন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতি।[৩] গাঁজা দীর্ঘকাল ধরে বীজ ও বীজ তেল, ঔষধি উদ্দেশ্যে এবং একটি বিনোদনমূলক ড্রাগ হিসাবে শণ আঁশের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আঁশের উত্পাদন বৃদ্ধি নির্বাচন করতে বাণিজ্যিক শণ পণ্যসমূহ গাঁজা গাছ থেকে তৈরি করা হয়।

দেশে দেশে
ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার। গাঁজা গাছের শীর্ষ পাতা, ডাল এবং ফুল যা এই উপমহাদেশে গাঁজা নামে পরিচিত একই জিনিস পশ্চিমা দেশ গুলোতে মারিজুয়ানা বা মারিহুয়ানা নামে পরিচিত। গাছের পাতা বা ডালের আঠালো কষ দিয়ে তৈরী এ অঞ্চলের চরস নামের জিনিসটিই পশ্চিমা দেশের হাশিশ।[২] এছাড়াও ভাং, সিদ্ধি, পাট্টি, সব্জি, গ্রাস, মাজুন নানা নামে ডাকা হয়।

ভেষজ গুণ
thumb|গাঁজার বীজ গাঁজা শরীরের বিষ-ব্যথা সারায়। এ কথার বর্ণনা রয়েছে ভারতবর্ষের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে। তবে এ কথাও সুবিদিত যে, গাঁজা, ভাং ও মারিজুয়ানা গ্রহণ মানুষের স্মরণশক্তি হ্রাস করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে মনোবৈকল্য ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এখন গাঁজা, ভাং ও মারিজুয়ানার ওপর গবেষণা করে জেনেছেন, এ সব মাদকদ্রব্য থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ব্যথানাশক ওষুধ প্রস্তুত করা সম্ভব, যা মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না। গবেষণাটি করেছে ফ্রান্সের বায়োমেডিকেল ইনস্টিটিউট।[৫] এর নেতৃত্ব দিয়েছে আইএনএসইআরএম। ফ্রান্সের গবেষকরা জানান, ‘তারা ইঁদুরের মস্তিষ্কের যে অংশের কোষের নিউরনে গাঁজা বা মারিজুয়ানার মাদক ক্রিয়া করে তা ওষুধ প্রয়োগ করে নিষ্ক্রিয় করেন প্রথম। এর পর ওই ইঁদুরের শরীরে এসব মাদক প্রবেশ করিয়ে দেখা গেছে, তাতে ইঁদুরটি বেহুশ হয় না। বরং ওটির প্রাণচাঞ্চল্য ঠিকই থাকে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্যথানাশক হিসেবে গাঁজা বা মারিজুয়ানার ভালো গুণ মানুষের বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের জন্য চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। শিগগিরই গাঁজা ও মারিজুয়ানার নির্যাস থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এ ওষুধ প্রস্তুত হবে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, ভাং ও গঞ্জিকা সেবনে ফুসফুসের ক্ষতি তামাক পাতায় প্রস্তুত সিগারেট পানের চেয়ে কম।








Leave a reply