বাড়ছে যমুনার পানি, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ম্লান কৃষকের

|

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত ২৪ ঘণ্টার শহড়াবাড়ি ঘাট পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীর কুল উপচে চরের জমিতে সদ্য রোপণকৃত রোপা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ম্লান হয়ে গেছে।

জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। পানি বেড়ে যমুনার চর এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ষষ্ঠ দফায় নতুন করে বড় ধরণের বন্যার আশংকা করছেন চরের কৃষকেরা। এর আগে দফায় দফায় বন্যায় সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন চরের প্রান্তিক কৃষকেরা।

প্রকৃতির আগ্রাসন আর দারিদ্র্যের কশাঘাতের বিরুদ্ধে ক্ষেতের ফসল আর নদীর মাছকে ঘিরে তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। এক মাস আগে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় চরের বুকে জমিগুলো ভেসে উঠেছিল। সময় হয়েছিল বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের। তাই ঘুরে দাড়ানোর অশায় বর্গাচাষি থেকে প্রান্তিক চাষি সবাই অনেকটা আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। কিন্ত কৃষকের সেই আশা আলোর মুখ দেখছে না। অসময়ে যমুনা নদীর পানি বেড়ে চরের সব ফসল তলিয়ে গেছে।

উপজেলার বৈশাখী চরের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, কয়েক মাস আগের বন্যায় দুই বিঘা জমির পাট তলিয়ে যাওয়ায় আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এক মাস আগে পানি নেমে যাওয়ার পর সাত দিন আগে সেই জমিতে গাইঞ্জা জাতের ধানের চারা রোপণ করছি। কিন্ত তিন দিনে পানি বেড়ে জমিতে সদ্য লাগানো ধান গাছ তলিয়ে গেছে।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, দফায় দফায় বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনার কর্মপরিকল্পনার ব্যবস্থা করেন। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রণোদনার আওতায় মাসকালাই, শাক সবজি বীজ ও আউশ চারা প্রদান করা হয়। প্রণোদনা পেয়ে কৃষক কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্ত অসময়ে নদীর পানি বাড়ায় কৃষকেরা মহাচিন্তায় পড়েছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, উজানের ঢলে যমুনার পানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই এক বছর পর পর এ সময়ে যমুনার পানি বেড়ে বন্যা হয়। তবে যে হারে যমুনার পানি বাড়ছে, তাতে এবারও আশ্বিন মাসে বন্যার আশংকা রয়েছে।








Leave a reply