বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়াল সৌদি

|

কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কুয়েত সফর শেষে ফিরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আব্দুল মোমেন বলেন, সৌদি আরব সরকার জানিয়েছে, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এটি সুসংবাদ, কারণ সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে অনেকেই এখন সেখানে যেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ ও মানব পাচারের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়া এমপি শহিদ ইসলাম পাপুলের বিষয়ে কুয়েত সফরে সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে কি-না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশি সংসদ সদস্য নয়, একজন স্থানীয় অপরাধী হিসেবে পাপুলের বিচার করছে কুয়েত। বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়েও তার বিচার হচ্ছে না। কারণ তার কুয়েতের রেসিডেন্স কার্ড বা এ জাতীয় কিছু আছে। এ কারণে তাকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ স্থানীয় অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটা একটা অপরাধমূলক মামলায় ব্যক্তিবিশেষের বিচারের ব্যাপার। তাছাড়া শাহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে কূটনৈতিক ভিসায় যাননি। উনি বা ওনার পরিবার কেউ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্টও সংগ্রহ করেননি। যেহেতু তারা একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ওনাকে গ্রেপ্তার করেছে, সেদেশের প্রচলিত আইনেই বিচার চলছে। এ বিষয়ে কুয়েতের দিক থেকেও কোনো আলোচনা ওঠেনি, তিনি নিজেও আলোচনা তোলেননি।

পাপুলের ঘটনায় কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রবাজারে প্রভাব পড়বে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কুয়েতে বাংলাদেশ মিশন থেকে যেটা জানা গেছে তা হচ্ছে, পাপুল অনেককে চাকরি দিয়েছেন। ওখানে কুয়েতি কিছু দুষ্টলোককে ঘুষ দিয়ে চাকরি দিয়েছিলেন তাদের। এখন কুয়েত কর্তৃপক্ষ খুঁজে খুঁজে বের করছে, এ প্রক্রিয়ায় কেউ চাকরি নিয়েছে কি-না। ভালো হলে চাকরিতে রাখছে, অন্য রকম হলে কুয়েত থেকে বের করে দিচ্ছে। সুতরাং কিছু বাংলাদেশি কর্মীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা আছে।

সম্প্রতি উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে এ অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চীন, জাপান, ভারত ও কোরিয়ার মতো দেশগুলো যারা মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হওয়ার ফলে যদি পুরো অঞ্চলে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তাহলে তাদের বিনিয়োগও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। এ কারণেই এ সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান খুঁজতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো থেকে নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পাচারকারীরা উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের ছবি শেয়ার করছে। এর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ফোরজি ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ইন্টারনেট বন্ধের বিরোধিতা করে এবং এটিকে তাদের মূল ইস্যু বানিয়ে ফেলে।








Leave a reply