বসলো ৩৩ তম স্প্যানটি, দৃশ্যমান ৫ কিমি

|

পদ্মা সেতুর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৩ ও ৪ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) ওপর বসানো হয়েছে ৩৩ তম স্প্যানটি। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হয়। এর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর এখন ৪ হাজার ৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

৩২তম স্প্যান বসানোর ৮ দিনের মাথায় এই স্প্যান বসানো হয়েছে। সেতু-সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, ৩৩ তম স্প্যানটি বসানোর ফলে পদ্মা সেতুর ওপর আর আটটি স্প্যান বসানো বাকি থাকল। সবশেষ ১১ অক্টোবর মাওয়া প্রান্তের ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয় ৩২ তম স্প্যান। এ মাসে আরও দুটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পদ্মা সেতুর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, করোনাভাইরাস ও বন্যার কারণে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল। সবকিছু পাশ কাটিয়ে সেতুর কাজ দ্রুত চলছে। বর্তমানে পদ্মায় পানির গভীরতা অনুকূলে আসায় প্রকৌশলীরা স্প্যান বসানোর কাজে গতি এনেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেনটি নির্দিষ্ট পিয়ারের দিকে যাত্রা শুরু করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের ‘ওয়ান সি’ নামের স্প্যানটি নির্দিষ্ট পিলারের কাছে পৌঁছায়। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে পিলারের দূরত্ব খুব বেশি না থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্প্যানটি বসানো হয়।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২৫ অক্টোবর ৭ ও ৮ নম্বর খুঁটিতে ৩৪ তম স্প্যান (স্প্যান ২-এ), ৩০ অক্টোবর ৮ ও ৯ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৫ তম স্প্যান (স্প্যান ২-বি), ৪ নভেম্বর ২ ও ৩ নম্বর খুঁটিতে ৩৬ তম স্প্যান (স্প্যান ১-বি), ১১ নভেম্বর ৯ ও ১০ নম্বর খুঁটিতে ৩৭ তম স্প্যান (স্প্যান ২-সি), ১৬ নভেম্বর ১ ও ২ নম্বর খুঁটিতে ৩৮ তম স্প্যান (স্প্যান ১-এ), ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর খুঁটিতে ৩৯ তম স্প্যান (স্প্যান ২-ডি), ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর খুঁটিতে ৪০ তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) ও সর্বশেষ আগামী ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর ৪১ নম্বর স্প্যানটি (স্প্যান ২-এফ) বসানোর কথা রয়েছে। স্প্যানগুলো মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাব। এরই মধ্যে ১ হাজার ৪১টির বেশি রোড স্লাব বসানো হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্লাব বসানো হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি। মূল সেতুর কাজ ৯০ ভাগ ও সার্বিক কাজ ৮১ দশমিক ৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন।








Leave a reply