পুলিশ রাতে ধরে নিয়ে গেল , সকালে মিললো লা’শ!

|

গভীর রাতে রবিউল বিশ্বা’স নামে এক যুবককে পু’লিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন সকালেই তার লা’শ পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী একটি বিলে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর কালুখালী থা’নার মাজবাড়ি ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে।

পরিবারের অ’ভিযোগ, রবিউলকে ধরে নিয়ে স’ন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন কালুখালী থা’নার এসআই ফজলুল হক। এলাকাবাসী জানিয়েছে, মা’দক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় তাকে হ’ত্যা করা হয়েছে।

রবিউল ছিলেন বেকারি ব্যবসায়ী। শনিবার সকালে তার লা’শ উ’দ্ধার করা হয়। তবে রবিউলকে গ্রে’প্তারের পর স’ন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়ার অ’ভিযোগ পু’লিশ অস্বীকার করেছে।

নি’হতের স্ত্রী’ জানান, রাত ২টার দিকে এলাকার তিন দুর্বৃত্ত রফিক, ইলিয়াস ও রাকিব তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় পু’লিশও তাদের সঙ্গে ছিল। তার স্বামীকে পু’লিশ ধরে নিয়ে যায়। সকালে তার লা’শ পান। তিনি এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের বিচার দাবি করছেন।

এলাকাবাসী জানায়, মা’দক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় তাকে হ’ত্যা করা হয়েছে। রফিক, ইলিয়াস ও রাকিব মা’দক কারবারে সাথে জ’ড়িত। তারাই রবিউলকে হ’ত্যা করেছে।

নি’হতের বোন মাজবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আ’মেনা বেগম জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনায় রবিউলসহ চারজনের বি’রুদ্ধে কালুখালী থা’নায় একটি মা’রামা’রির মা’মলা হয়। শুক্রবার রাত ২টার

দিকে কালুখালী থা’নার এসআই ফজলুলসহ তিন পু’লিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। তার ভাইয়ের স্ত্রী’কে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এরপর তার দুই ভাই রবিউল ও আকতারকে ধরে নিয়ে স’ন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। আকতার পালিয়ে বাঁচলেও রবিউলকে হ’ত্যা করা হয়।

কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমা’র ভাইয়ের তিনটি শি’শুসন্তান এতিম হয়ে গেল। ওদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।

এদিকে শনিবার সকালে এসআই ফজলুলসহ তিন পু’লিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের অব’রুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় এলাকাবাসী ফজলুল ও স্থানীয় ইউসুফ মেম্বারের বি’রুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন। এছাড়াও পু’লিশের ওপর উত্তেজিত হতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালুখালী থা’নার ওসি কাম’রুল ইস’লাম একদল পু’লিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অব’রুদ্ধ তিন পু’লিশ সদস্যকে উ’দ্ধারের চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাদের খবর দেন। পরে ১১টার দিকে রাজবাড়ী থেকে অ’তিরিক্ত পু’লিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর লা’ঠিচার্জ করে তাদের তিন সহকর্মীকে মুক্ত করে।

রাজবাড়ীর অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ সালাউদ্দিন, সহকারী পু’লিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) লাবিব আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসীদের দাবি, সাম্প্রতিককালে মাজবাড়ি ইউনিয়ন এলাকায় মা’দক ব্যবসা ভ’য়াবহভাবে বেড়েছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে চলে স’ন্ত্রাসী কর্মকা’ণ্ড। নি’হত রবিউলসহ কয়েকজন মা’দক ব্যবসায় বাধা দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে অকালে প্রা’ণ হারাতে হলো।

কালুখালী উপজে’লা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালুখালী উপজে’লা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইস’লাম জানান, মাজবাড়ি ইউনিয়ন মা’দকে ছেয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় লোকজন একদল মা’দক কারবারিকে ধাওয়া করে। স’ন্ত্রাসীরা বিষয়টি ইউসুফ মেম্বারকে জানায়। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার এলাকায় সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে ইউসুফ মেম্বার না আসায় সালিশ আর হয়নি। রাতে পু’লিশ রবিউল, আক্তার ও বাবুল নামে তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়।

এসআই ফজলুল অ’ভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শুক্রবার ইলিয়াস কালুখালী থা’নায় একটি মা’রামা’রি মা’মলা করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেতবাড়িয়া গ্রামে অ’ভিযান চালিয়ে ওই মা’মলার আ’সামি বাবুলকে গ্রে’প্তার করে থা’নায় রেখে তিনি ঘুমাতে যান। তিনি রবিউলদের বাড়িতে যাননি।

এদিকে, এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পু’লিশ সুপার মিজানুর রহমানের ফোনে কল করে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ সালাউদ্দিনের ফোন নাম্বার জে’লা পু’লিশের ওয়েবসাইটে ১০ ডিজিটের থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সহকারী পু’লিশ সুপার মোঃ লাবীব আব্দুল্লাহর ফোন নাম্বারটি (জে’লা পু’লিশের ওয়েবসাইটে দেয়া) ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে জানায়।








Leave a reply