পুলিশের অভিযান, রায়পুরায় শতাধিক টেঁটা উদ্ধার

|

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ সংঘটিত হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের এক শিশুসহ ৬ জন টেঁটাবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রায়পুরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহপুর ও তার আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক টেঁটা উদ্ধার করা হয়।

এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল আহমেদ ও রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুল্লাহপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন স্বপন ও মো. কাঞ্চন মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গেল ১৩ মে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারান ওই এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৫)। ওই সময় এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। এরই জের ধরে গত দুই দিন ধরে এলাকায় আবারও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বপন ও কাঞ্চন সমর্থিত দুই শতাধিক লোকজন টেঁটা, বল্লাম, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে স্বপন গ্রুপের পাঁচজন ও কাঞ্চন গ্রুপের একজন টেঁটাবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

রায়পুরা থানার সেকেন্ড অফিসার দেব দুলাল বলেন, দেশীয় শতাধিক অস্ত্র আশপাশের এলাকার ঝোপঝাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবারের ঘটনায় দুটি পক্ষের কেউ থানায় মামলা দায়ের করেনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেন জানান তিনি।

টেটা একটি দীর্ঘ বর্শার মত যন্ত্র যা মাছ শিকার করায় ব্যবহৃত হয় এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করায় যেমন তিমি শিকার কিংবা অন্যান্য বৃহৎ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী শিকারে টেটা ব্যবহৃত হয়। লক্ষ প্রাণীর উপর টেটা নিক্ষেপ করে শিকার করা হয়। দুরের লক্ষ প্রাণী শিকারের সময় এর সাথে যুক্ত দড়ি মাছ ধরতে সাহায্য করে। টেটা অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

টেটা ১৯৯০ এর দশকে জায়ার (বর্তমানে গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো),সেম্লিকি টেটা হিসেবে পরিচিত ছিল যা কাটান্ডা এলাকায় দেখা যেত।সবথেকে প্রাচিন যে টেটা সন্ধান পাওয়া গেছে তা প্রায় ৯০,০০০ বছর পূর্বের যা দেখতে বর্শার মত ছিল এবং যা দিয়ে মাগুর জাতীয় মাছ শিকার করা হত। [১]

পুরাতন প্রস্তরযুগের টেটার প্রচলন জাপানে অনেক বেড়ে যায়, বিশেষকরে সলিউট্রিয়ান ও মাগদালেনিয়ান সময়ে টেটার ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ ফ্রান্সের কস্কার গুহা যা ১৬,০০০ বছরের পুরাতন গুহা শিল্পের সাথে অঙ্কন শিল্পেরও চিহ্ন বহন করে সেখানে টেটার অঙ্কন শিল্প লক্ষ করা যায়।[২]

প্রাচীন সাহিত্যে টেটার উল্লেখ আছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।যেমন বাইবেলের একটা উক্তি “তুমি কি চাও তোমার চামড়া কাঁটাতার দিয়ে ক্ষতবিক্ষত হোক নাকি তুমি টেটা দিয়ে তার মাথা বিদ্ধ করতে চাও?”

গ্রিক ইতিহাসবিদ পলিবায়াস(খ্রিষ্টপূর্বঃ২০৩-১২০) ব্যাখ্যা করেন যে সোর্ড ফিস শিকারের জন্য কাঁটাতারের তৈরি টেটা ব্যবহার করা হত।[৩] প্রাচীনকালে কপারের টেটা সামুদ্রিক হারাপ্পা নামে পরিচিত।[৪][৫] ভারত ও ভারতের আশেপাশের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আদিম অধিবাসীরা মাছ শিকারের জন্য লম্বা সুতা যুক্ত টেটা ব্যবহার করত।








Leave a reply