ধানের আরও তিনটি নতুন জাত অবমুক্ত, দুটি লবণাক্ততা সহনশীল

|

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উচ্চ ফলনশীল ধানের তিনটি নতুন জাত উদ্ভাবন ও অবমুক্ত করেছে। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধানের জাতের মধ্যে যে দুটো লবণাক্ততা সহনশীল, এ দুটি জাত উপকূলীয় এলোকায় বোরো মওসুমে ও অপরটি আউশ মওসুমে সারাদেশে চাষাবাদের উপযোগী।

জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় গত মঙ্গলবার এ তিনটি ধানের জাত অনুমোদন করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ওই সভায় ব্রি’র মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ তিনটি ধানের জাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৯৭ ও ব্রি ধান-৯৯ দেশের উপকূলীয় লবণাক্ততা অঞ্চলের অনুকূল পরিবেশে আবাদের জন্য এবং ব্রি ধান-৯৮ সারাদেশে আউশ মওসুমে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। নতুন এই তিনটি জাত উদ্ভাবনের ফলে ব্রি উদ্ভাবিত সর্বমোট ধান জাতের সংখ্যা হলো ১০৫টি।

ব্রি ধান-৯৮

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন জানান, অবমুক্ত করা নতুন জাতগুলোর মধ্যে ব্রি ধান-৯৮ আউশ মওসুমে চাষ উপযোগী জাত। এর ফলন প্রতি হেক্টরে ৫.০৯ থেকে ৫.৮৭ টন। এর দানা লম্বা ও চিকন। এ জাতের ধানের দানার রঙ সোনালী। এ জাতের জীবনকাল ১১২ দিন যা রোপা আউশ মৌসুমের জাত বিআর-২৬ এর সমান। ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২২.৬ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৭.৯ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯.৫ ভাগ। ভাত ঝরঝরে। এ জাতের কৌলিক সারিটি নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে তিন বছর এর ফলন পরীক্ষা করা হয় এবং পরে কৌলিক সারিটি আউশ ২০১৮-১৯ মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। উক্ত কৌলিক সারিটির জীবনকাল বিআর২৬ এর মতো এবং ফলন বেশি হওয়ায় প্রস্তাবিত জাত হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল আউশ ২০১৯-২০ মৌসুমে কৃষকের মাঠে প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কৃষকের মাঠে ফলন পরীক্ষা সন্তোষজনক হওয়ায় আউশ মৌসুমের জন্য বিআর২৬ এর একটি পরিপূরক জাত হিসাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।

অন্যদিকে, ব্রি ধান-৯৭ ও ব্রি ধান-৯৯ বোরো মওসুমের উচ্চ ফলনশীল লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত। এ জাতগুলো চারা অবস্থায় ১৪ ডিএস/মি এবং সমগ্র জীবনকালে ৮-১০ ডিএস/মি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এসব ধানের জাতেরও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী:

ব্রি ধান-৯৭

ব্রি ধান-৯৭ এর গড় জীবনকাল ১৫২ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৯ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৭.০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২৫.৫ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৫.২ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৮.৬ ভাগ। ধান তৃণের গড় উচ্চতা ১০০ সে.মি. ও ডিগপাতা খাড়া। এর চাল মাঝারি মোটা হওয়ায় বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর ও খুলনা অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয় হবে।

ব্রি ধান-৯৯

ব্রি ধান-৯৯ এর গড় জীবন কাল ১৫৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৫.৪ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৭.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম । এ জাতের ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২২.৮ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৭.১ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৭.৯ ভাগ। গাছের গড় উচ্চতা ৯৪ সে.মি. ও ডিগপাতা খাড়া। এর চাল লম্বা ও চিকন হওয়ায় সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ জাতের কৌলিক সারিগুলোর নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে তিন বছর এর ফলন পরীক্ষা করা হয় এবং পরে কৌলিক সারিগুলোর বোরো ২০১৭-১৮ মওসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। উক্ত কৌলিক সারিগুলো লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান-৬৭ এর থেকে ফলন বেশি হওয়ায় প্রস্তাবিত জাত হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল বোরো ২০১৮-১৯ মওসুমে কৃষকের মাঠে প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কৃষকের মাঠে ফলন পরীক্ষা সন্তোষজনক হওয়ায় বোরো মওসুমের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান৬৭ এর পরিপূরক জাত হিসাবে এ জাত দুইটি অবমুক্ত করা হয়।








Leave a reply