দুর্গোৎসব সীমাবদ্ধ রীতিতে, নেই প্রতিমা শিল্পীদের সেই ব্যস্ততা

|

হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। তবে প্রতি বছরের মতো এই সময় পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়নি। বলা হয়েছে, এবারের দুর্গা পূজা উৎসব নয় ধর্মীয় রীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই কমেছে প্রতিমার আকার এবং মণ্ডপের সংখ্যাও। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপ কমেছে অন্তত দুই হাজার।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজাধানীর পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিমা শিল্পীরা জানান, সারাবছর টুকটাক প্রতিমা বানানোর কাজ করলেও আয়ের বড় অংশ অনেকটাই নির্ভর করে দুর্গা পূজার ওপর। এই মৌসুমে প্রতিমা শিল্পীরা ৮ থেকে ১২টি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করে থাকেন। তবে, এবার দেখা গিয়েছে ভিন্নতা। করোনার প্রভাব পড়েছে এই শিল্পের ওপরও। সব শিল্পীরই কাজ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজ পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে অনেকেই তা অর্ডার নিতে পারেননি। এছাড়া আয়োজকদের বাজেট কম থাকায় প্রতিমার আকার ছোট করতে হয়েছে।

সরেজমিনে প্রতিমা শিল্পীদের কর্মশালায় তেমন কোনও ব্যস্ততার ছাপ দেখা যায়নি। এক কর্মশালায় দুইটি এবং অন্য একটি কর্মশালায় একটি প্রতিমা তৈরি করতে দেখা গেছে। তবে প্রতিমাগুলো এক ফ্রেমে তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে আকার হয়েছে ছোট। এটাই নাকি বর্তমান আয়োজকদের চাহিদা। এছাড়া যেখানে আগে ৪ থেকে ৫ জন সহযোগী নিয়ে কাজ করতেন শিল্পীরা, সেখানে এখন কাজ করছেন মাত্র দুই জন সহযোগী নিয়ে।

শাঁখারীবাজারের নামকরা প্রবীণ প্রতিমা শিল্পী হরিপদ পাল। জানালেন জীবনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিমা বানিয়েছেন। প্রতিমা বানানোর কাজে কয়েকবার ভারত, একবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি ও হংকং গিয়েছিন। তার কাছে রাজধানীর বনানী পূজা মণ্ডপসহ বেশ কিছু বড় বড় স্থানের প্রতিমা বানানোর কাজ থাকে প্রতি বছর। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় ছোটবেলা থেকেই এই শিল্পে জড়িত। প্রতিবছরই প্রতিমার চাহিদা বাড়ে কিন্তু এবার করোনার কারণে চাহিদা একটু কম মনে হচ্ছে। আমার কাছে প্রতি বছরই অনেক অর্ডার আসে, কিন্তু সাত থেকে আটটার বেশি কাজ এক মৌসুমে করতে পারি না। সর্বোচ্চ একবার করেছিলাম ৯টা। তবে এবার সময় স্বল্পতার কারণে পাঁচটা অর্ডার নিয়েছি।’

ওই এলাকার আরেক প্রতিমা শিল্পী পল্টন পাল বলেন, ‘আগে অনেক বেশি কাজ চলতো, এখন কমেছে। এ বছর আমি চারটি অর্ডার নিয়েছি। অন্য সময় সাত থেকে আটটি প্রতিমা বানাই। আয়োজকদের বাজেট কম হওয়াতে প্রতিমার আকার ছোট করতে হয়েছে। বাজেট কম হওয়াতে এ বছর তেমন কোনও আয় থাকবে না। বর্তমানে পুরান ঢাকা এলাকায় ছয় জন প্রতিমা শিল্পী রয়েছেন। এবার প্রত্যেকের কাছেই ছোট আকারের প্রতিমার অর্ডার এসেছে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নির্মল কুমার চ্যাটার্জী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে এবারের দূর্গা পূজাটা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতিতে। যার ফলে উৎসব করার সুযোগটা থাকছে না। যখন উৎসব থাকে, তখন মানুষের মন বড় থাকে। মানুষ চায় তার মণ্ডপটি সবচেয়ে সুন্দর হোক, বড় হোক। মানুষের মধ্যে সেই উৎফুল্লতা নেই। ধর্মীয় রীতি পালন করতে হবে বলেই হয়তো এবার প্রতিমাগুলো ছোট হয়েছে।’

তিনি জানান, সরকারি হিসাব মতে সারাদেশে এবার ৩০ হাজার ৮১টি পূজা মণ্ডপের আয়োজন করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে সারাদেশে পূজা মণ্ডপের আয়োজন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৭০০টি। আর শুধুমাত্র রাজধানীতে পূজা মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে ২৩২টি। মহামারীর কারণে এ বছর প্রায় ২ হাজার পূজা মণ্ডপ কমেছে।








Leave a reply