গুণেমানে বাগেরহাটে প্রথম, গোটা দেশে পঞ্চম চিতলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

|

বাগেরহাট জেলায় প্রথম এবং বাংলাদেশের ৪৯২টির মধ্যে গুণমানে পঞ্চম হয়েছে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রথম পাঁচের তালিকায় রয়েছে খুলনা বিভাগের আরো দুটি হাসপাতাল। তালিকার শীর্ষে, অর্থাৎ প্রথম সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তৃতীয় অবস্থানে আছে যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আধুনিক অনলাইন মনিটরিং রিপোর্টিং সিস্টেমে আগস্ট মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদনের র‍্যাংকিং তালিকায় এ ফলাফল প্রদর্শিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমের ১৫টি নির্দেশক বা পরিমাপকের (ইন্ডিকেটর) নির্দিষ্ট নম্বর পদ্ধতির মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হাসপাতালের সেবা প্রদান, স্বাস্থ্য কর্মক্ষমতা, লজিস্টিক, নেতৃত্বায়ন, প্রবেশাধিকার, গুণগত মান, কাভারেজ, নিরাপত্তাব্যবস্থা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ওই পর্যবেক্ষণ করা হয়। আধুনিক সফটওয়্যার সিস্টেমের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতি মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, নম্বর তালিকায় প্রথম খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার দুর্গম সুন্দরবন ঘেঁষা শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পেয়েছে ৭২.১৩ নম্বর। এর ৫৪.৪০ নম্বর পেয়েছে ফ্যাসিলিটি এবং ১৭.৭৩ নম্বর বাইরের নিরীক্ষণে (আউটসাইট মনিটরিং)। খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় যশোর জেলার শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পেয়েছে ৭১.৯৪ নম্বর। এর ৫৪.২১ নম্বর পেয়েছে ফ্যাসিলিটিতে এবং ১৭.৭৩ নম্বর বাইরের নিরীক্ষণে। খুলনা বিভাগের তৃতীয় বাগেরহাট জেলার একমাত্র চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পেয়েছে ৭১.৪৬ নম্বর। তন্মধ্যে ৫৩.৭৩ নম্বর পেয়েছে ফ্যাসিলিটিতে এবং ১৭.৭৩ নম্বর পায় বাইরের নিরীক্ষণে।

ডা. মো. মামুন হাসান আরো জানান, চিতলমারীকে এক নম্বরে নেয়ার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। জন্মভূমির প্রতি এটা তার দায়বদ্ধতা। তিনি নিজে চিতলমারীর সন্তান। লেখাপড়া শিখে নিজের জন্মভূমিকে প্রথম হতে দেখা মানে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে প্রথম করে তোলা। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। হাসপাতালের অতীত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান। এক্ষেত্রে হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ এলাকার সকল স্তরের নাগরিকগণ আন্তরিক সহযোগিতা করছেন।

তিনি জানান, কারোনায় আক্রান্ত কেউ মারা যাননি চিতলমারীতে। স্থানীয় (বাগেরহাট-১ আসন) এমপি শেখ হেলাল উদ্দীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ সহযোগিতা করছেন। বিশেষত, কারোনাকালে তার উদ্যোগে চীন থেকে আনা পিপিই, মাস্কসহ অন্যান্য উপকরণ চিতলমারী হাসপাতালের সকলে পেয়েছে। ফলে নবদ্যোমে তারা করোনা প্রতিরোধে সেবা দিচ্ছেন। চলতি সময়ে এটা অনেক বড় অর্জন।








Leave a reply