করোনা : বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে পাঁচ বছর লাগতে পারে

|

করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে জানান বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কারমেন রিনহার্ট। সম্প্রতি মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘করোনাকালে শহরে শহরে যে লকডাউন ও চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে তার প্রায় সবটাই এখন উঠে গেছে। ফলে অর্থনীতি খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু পুরোপুরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় যে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে তা বেশ কিছু দেশে দীর্ঘ মেয়াদে থাকবে অন্যদের তুলনায়। এ ছাড়া সামাজিক অসমতা আরো বাড়িয়ে দেবে। কারণ করোনার কারণে দরিদ্ররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধনী দেশগুলোতে দরিদ্ররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার ধনী দেশগুলোর তুলনায় দরিদ্র দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ রিনহার্ট বলেন, ‘বিশ্বের গত ২০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম দারিদ্র্যের হার বাড়বে। সেটা করোনা মহামারির কারণেই।’

এর আগে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনায় গভীর মন্দায় তলাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, যা হবে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এমনকি এবারের সংকটের কারণে যে বিপুলসংখ্যক দেশ আর্থিক মন্দায় পড়েছে তাতে এই অর্থনৈতিক সংকটকে ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলা যায়।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানায়, করোনার কারণে দুই বছরে বিশ্ব অর্থনীতি হারাবে ১২ ট্রিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ্যা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ধীর গতি অথবা বাণিজ্যিক আবর্তন-এর সংকোচনকে মন্দা বলা হয়।[১][২] মন্দার সময় বড় অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ধরন একই রকম থাকে। মন্দার সময়, জাতীয় গড় আয় (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা GDP), চাকরি, বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যয়, উত্পাদন ক্ষমতার ব্যবহার, পারিবারিক আয়, ব্যবসায়িক লাভ এবং মুদ্রাস্ফীতি, এ সব কিছুই অনেক কমে যায়; এই সময় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং বেকারত্বের হার বেড়ে যায়।

সরকার নানা প্রকার সম্প্রসারণমূলক কাজকর্ম যেমন, বৃহদাকার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে, টাকার জোগান বৃদ্ধি করে, সরকারি খরচ বৃদ্ধি করে এবং করের পরিমাণ কমিয়ে মন্দার মোকাবিলা করার চেষ্টা করে।








Leave a reply