ওমর খালিদ গ্রেপ্তার, ভারত জুড়ে নিন্দার ঝড়

|

ওমর খালিদ নামে ভারতের একজন সাবেক ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে সংঘটিত ছাত্র বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। পুরিশ অবশ্য এটাকে দাঙ্গা হিসেবে অভিহিত করেছে। দিল্লির শাহীনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনেও তিনি উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের। খবর আল জাজিরার

জানা গেছে, রোববার দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসবাদ শেষে রাত ১১ টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা দায়ের হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন মহল থেকে সরকার ও পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

এদিন রাতেই ওমর খালিদের বাবা কাশিম রসুল ইলিয়াস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ‘স্পেশাল সেল রাত ১১টায় আমার ছেলে ওমর খালিদকে গ্রেপ্তার করেছে। দুপুর ১টা থেকে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। তাকে দিল্লির দাঙ্গা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’

এদিকে ৩৩ বছর বয়সী ওমর খালিদকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। অধ্যাপক অপূর্বানন্দ এবং সমাজকর্মী হর্ষ মন্দারের মতো ব্যক্তিত্বরা এতে অংশ নিয়েছেন। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলা সাহসী তরুণদের মধ্যে ওমর খালিদ অন্যতম।

অধ্যাপক অপূর্বানন্দ এবং সমাজকর্মী হর্ষ মন্দারসহ ১২ জন ব্যক্তিত্ব যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের টার্গেট করে একটি বিদ্বেষপূর্ণ তদন্তের অংশ হিসেবে ওমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

‘ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট হেট’ সংগঠন এক বিবৃতিতে বলেছে, দিল্লি পুলিশ দাঙ্গার তদন্তের ছদ্মবেশে বিক্ষোভকে অপরাধীকরণ করার চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভীতি প্রদর্শনের এই সমস্ত পদ্ধতি সত্ত্বেও, ‘সিএএ’ এবং ‘ইউএপিএ’র মতো নিষ্ঠুর আইনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।’

‘স্বরাজ অভিযান’-এর নেতা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, ওমর খালিদের গ্রেপ্তারে অবাক হয়েছেন। যাদব বলেন, আমি অবাক হয়েছি যে ওমর খালিদের মতো একজন তরুণ, ভাল চিন্তাভাবনা এবং আদর্শবাদী সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে ‘ইউএপিএ’ অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছে! খালিদ সবসময় সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা দিল্লি পুলিশ ভারতের ভবিষ্যতকে বেশিদিন থামাতে পারবে না বলেও যোগেন্দ্র যাদব মন্তব্য করেন।সমাজকর্মী ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেত্রী শেহলা রশিদ কটাক্ষ করে বলেছেন, ওই মামলাটি মোদির শিক্ষামূলক প্রশংসাপত্র ও বৈবাহিক অবস্থানের মতোই ভুয়া।

প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, এটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ফাঁসানোর জন্য পুলিশের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কাজ। তারা গণতান্ত্রিক কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে রাখতে চায়।








Leave a reply