ওপারে আটকে থাকা ১২০ ট্রাক পেঁয়াজে পচন, রফতানিকারকরা বস্তা খুলে ফেলছেন নদীতে

|

পেঁয়াজ এবার বড় দাগা দিচ্ছে ভারতীয় রফতানিকারকদেরও। বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন তারাও। তাদের সরকারের অনুমোদন না মেলায় দীর্ঘ ৯ দিন ধরে হিলি সীমান্তের ভারতীয় অংশে দাঁড়িয়ে থাকা পেঁয়াজবাহী ট্রাকগুলোকে সরিয়ে নিয়েছেন রফতানিকারকরা। বেশ কিছুদিন আটকে থাকার কারণে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় এমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে তারা সব বস্তা নিজেদের গুদামেও তুলতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন নদীতে। বাংলাদেশে অন্য পণ্য নিয়ে আসা এক ট্রাকচালকের দাবি, এমন অন্তত ১২০টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক ওপারে দাঁড়িয়েছিল যেগুলো এখন খালাস করছেন রফতানিকারকরা।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে কোনও পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করে ভারত, পরের দিন থেকে আবারও পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় তারা। তবে কেবল ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ৪ থেকে ৫টি করে ট্রাক প্রতিদিন প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় ট্রাকচালকবলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভারতের অভ্যন্তরে হিলিতে ছোট পার্কিং ও বালুপাড়া এরাকার বড় পার্কিংয়ে ১২০টির মতো পেঁয়াজবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকদিন আটকা থেকেও রফতানি না হওয়ায় গরমে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজগুলো পচতে শুরু করে। এগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এ অবস্থায় ট্রাকগুলো সরিয়ে নিয়ে গিয়ে রফতানিকারকরা তাদের গুদামে পেঁয়াজ নামাচ্ছেন বা বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করছেন। অনেক পেঁয়াজ এমন খারাপ হয়ে গেছে যে নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।

অবশ্য নদীদূষণের কারণে তাদের কোনও শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে কিনা সেটা জানাতে পারেননি তিনি।

ভারতের হিলির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খোকন সরকার জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় বেশ কিছু পেঁয়াজবাহী ট্রাক বাংলাদেশে রফতানির অপেক্ষায় সীমান্তে আটকা পড়ে যায়। পরবর্তীতে গত রবিবারের টেন্ডার হওয়া ১১ ট্রাক পেঁয়াজ অনুমতি সাপেক্ষে ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু বাকি ট্রাকগুলোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না আসায় সেগুলো রফতানির অপেক্ষায় আটকা পড়ে যায়। কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে বেশ কয়েকদিন হয়ে যাওয়ার কারণে পেঁয়াজগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় রফতানিকারকরা সেই ট্রাকগুলোকে সীমান্তের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের নিজ নিজ গুদামে খালি করে নিচ্ছে। তাছাড়া তো আর কোনও উপায় নেই, মাল পচে তো শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘রফতানি না হওয়ার কারণে পেঁয়াজের যে অবস্থা হয়ে গেছে আর তাতে যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে রফতানিকারকরা মরে শেষ হয়ে যাবে।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুনবলেন, রফতানি বন্ধের পাঁচ দিন পর ভারত ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করে যার অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ পচা, নষ্ট ছিল। এসব পেঁয়াজ দিয়ে পানি ঝরছিল। কিছু পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলেও অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। এতে করে ওই ১১ ট্রাক পেঁয়াজে অর্ধকোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে আমাদের। কিন্তু আটকে থাকা বাকি ট্রাকগুলো তারা রফতানি করতে পারেনি। ইতোমধ্যে সেই পেঁয়াজের অবস্থা আরও খারাপ, ভ্যাপসা গরম ও অতিবৃষ্টির কারণে ৭৫ ভাগের বেশি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে হয়তো তারা ওগুলো ট্রাক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে আমাদের যে দশ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি দেওয়া রয়েছে সে বিষয়েও তারা কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে আমরা তাদেরকে এসব এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করে আসছি।








Leave a reply