এইচএসসিতে তবে সবাই পাস

|

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা নেবে না সরকার। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এসব পরীক্ষার্থীর ফল জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরে এ ফল প্রকাশ করা হবে। এদিকে পরীক্ষাটি বাতিলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও প্রকাশ করেছেন স্বস্তি। তবে ফেইসবকুসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে।

গত ১ এপ্রিল থেকে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল প্রায় ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আটকে যায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও। এর আগে এ বছর পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের এইচএসসি শিক্ষার্থীরা দুটি পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। এদের জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড় অনুযায়ী এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। মূল্যায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিশেষজ্ঞ কমিটি নভেম্বর মাসে তাদের পরামর্শ বা মতামত দেবে। এরপর ডিসেম্বরে এ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা এসএসসি পাসের পর এইচএসসিতে (বিজ্ঞান থেকে বাণিজ্য বা মানবিকে ভর্তি) বিভাগ পরিবর্তন করেছেন, তাদের মূল্যায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি বিভাগ পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি ঠিক করবে।

এবার এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষা কীভাবে হবেÑ এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার ভর্তি কীভাবে হবে এখনই বলা সমীচীন হবে না। আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি কীভাবে হবে।’

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছ পদ্ধতিতে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আদৌ ভর্তি পরীক্ষাটি নেওয়া সম্ভব হবে কি না এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পরিষদ।

এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে হবে, এ নিয়ে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা ছিল সবার মধ্যে।

সরকার এ পরীক্ষা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত দিল, তাতে এ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান হলো। ঘোষণাটা আসা দরকার ছিল। ভবিষ্যতে কবে করোনার সংক্রমণ কমবে, কবে পরীক্ষা নেওয়া যাবে, এটা একেবারে অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম পুরোদমে শুরুর জন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতি অর্থাৎ ৫ শতাংশের নিচে করোনা শনাক্তের হার আমাদের দেশে এখনো হয়নি। কাজেই সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটাও একটি বিকল্প। আর কোনো বিকল্প এই মুহূর্তে ভাবা যেত কি না, সেটাও বিবেচনার বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে পরীক্ষা হলে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ১৪ লাখ অভিভাবক, ২ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হতো। এতে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল অনেক। ফলে সরকার এটা বিবেচনা করেছে। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যেতেও ভয় পেত অথবা অনেকে পরীক্ষা দিত না। তাই সরকারের এ সিদ্ধান্ত সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

অন্যদিকে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, পরীক্ষা হবে কি হবে না, এ নিয়ে সংশয় ছিল এতদিন। পরীক্ষা হলে কীভাবে হলে যাবেন, কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তা ছিল।

এ নিয়ে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। যদি নেওয়া হলোই তাহলে এতদিন পর কেন? আরও আগেই নেওয়া যেত। আবার কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।








Leave a reply