আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

|

‘আগামী বছরের শুরুর দিকে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার পরিমাণ কমিয়ে আড়াই হাজারে নিয়ে আসা হবে’; ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েনের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহার নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। টুইটার পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে আমাদের যে অল্প সংখ্যক সাহসী নারী-পুরুষ দায়িত্ব পালন করছেন, বড়দিনের আগেই তাদের ঘরে ফিরে আসা উচিত’।

যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাতারে হওয়া ঐতিহাসিক এক চুক্তিতে তালেবানদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের শর্তে আগামী বছরের মে মাসের আগেই আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। চুক্তির ফলে তালেবানরা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে পশ্চিমা সমর্থিত আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাজি হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচনে ফের জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউজের দখল ধরে রাখতে চাওয়া ট্রাম্প তার প্রচারণায় বারবারই ‘অহেতুক অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার কৃতিত্ব দাবি করছেন; যদিও এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বিদ্যমান।

তবে ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া তালেবানরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বুধবারের টুইটকে স্বাগত জানিয়েছে। “তার বিবৃতি দোহা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ,” বলেছেন তালেবানদের মুখপাত্র মোহাম্মাদ নাঈম।

ট্রাম্পের টুইট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগান সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিণতি ভালো হবে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্প তালেবানদের সঙ্গে সৈন্য কমানো নিয়ে চুক্তি করলেও নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি হেরে গেলে এ চুক্তির বাস্তবায়ন আটকে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে সৈন্য সংখ্যা কমালেও আফগানিস্তানে সরকার সমর্থিত বাহিনী ও তালেবানদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের যুদ্ধে কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছে।








Leave a reply