১৬ দেশ পেরিয়ে নীড়ে ফিরলো কোকিল, অবাক বিজ্ঞানীরাও

|

বসন্তকালের অন্যতম দৃশ্যমান প্রতীক হচ্ছে ফুটন্ত ফুল ও কোকিল। শোভিত ফুলের মাঝে চারপাশ মাতিয়ে রাখে কোকিল পাখির সুরেলা সুর। কিন্তু মৌসুম বিদায় নিলে কোকিলকে তেমন দেখা যায় না। নির্দিষ্ট বাসা না থাকায় বংশবৃদ্ধির স্থান হিসেবে বেছে নেয় কাকের বাসা। কাকের বাসায় ডিম পেড়ে উধাও হয় কোকিল। কিন্তু অদ্ভূত কাণ্ড ঘটালো ওনন নামের একটি কোকিল। এক বছরে ডানায় ভর দিয়ে ১৬ দেশ ভ্রমণ শেষে নীড়ে ফিরেছে কোকিলটি।

সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ার বিজ্ঞানীরা অদ্ভূত ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। কোকিলের নীড়ে ফেরা দেখে বেশ অবাক হয়েছেন তারা। আর কোকিলের চরিত্র নিয়ে গবেষণার নতুন সূত্র খোঁজা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

২০১৯ সালে জুন মাসে মঙ্গোলিয়ায় ওনন নামের কোকিলের ডানায় ‘প্ল্যাটফর্ম ট্রান্সমিটেড টার্মিনাল’ ব্যাকপ্যাক লাগিয়ে উড়নো হয়। তখন ওননের গলায় পরানো হয় ছোট্ট একটি ট্র্যাকার যন্ত্র। স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১৬টি দেশের সীমানা পার করেছে ওনন। এমনকি গত বসন্তে ভারতের গুজরাটেও প্রবেশ করেছে সে। 

ট্রাক্যারে দেখা গিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতেই ছিল সে। তার পর পাকিস্তান, ইথিওপিয়া যায়। শেষ পর্যন্ত জুনের ২৭ তারিখ আবারো মঙ্গোলিয়ায় ফিরে যায় ওনন। আর এ ঘটনায় রীতিমতো চমকে গিয়েছেন প্রাণী বিজ্ঞানীরা।

কোকিল অতিথি গোত্রের পাখি হিসেবে পরিচিত। কাকের বাসায় ডিম পাড়ার জন্য তার কুখ্যাতি রয়েছে। কিন্তু সেই কোকিল কীভাবে ফিরল? অন্তত সে রকমই ঘটনা দেখলেন বিজ্ঞানীরা। ফিরে আসার টান অগ্রাহ্য করতে পারেনি সে। অবশ্য ওননের সঙ্গে আরো অনেক কোকিলের গলায় ট্র্যাকার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এক্ষেত্রে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে। অথবা কোনো কারণে তাদের মৃত্যুও হতে পারে। এই ঘটনা কোকিলের চরিত্র নিয়ে আবারো গবেষণার সুযোগ করে দিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গত বছর রাজাভাতখাওয়া শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে পাকিস্তান ঘুরে ছয় শকুন এসেছিল। শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে ছাড়া ছয়টি হিমালয়ান গ্রিফণ প্রজাতির শকুন আরো অতিথি শকুন নিয়ে এসেছিল। এতে বেশ উচ্ছ্বসিত হন বনকর্তারা। 

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে উন্মুক্ত করা শকুনগুলো বহিরাগত শকুনদের খাদ্য ভাণ্ডারের সন্ধান দেয়। 

উন্মুক্ত হওয়া ওই ছয়টি শকুনের মধ্যে দুটির ডানায় ‘প্ল্যাটফর্ম ট্রান্সমিটেড টার্মিনাল’ ব্যাকপ্যাক লাগিয়ে দেয়া হয়। স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কখনো নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ আবার কখনো সুদূর পাকিস্তান বা কাজাকিস্তানে উড়ে গিয়ে দলবল নিয়ে তারা বক্সা অথবা জলদাপাড়ায় ফিরে এসেছে।








Leave a reply