হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কি বৈজ্ঞানিক না অবৈজ্ঞানিক জেনে নিন

|

১৯৭৪ সালে জার্মানিতে স্যামুয়েল ক্রিস্টিয়ান হ‍্যানেমান হোমিওপ্যাথির আবিষ্কার করেন। সেইসময়ের চিকিৎসা বিদ্যার সম্পর্কে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না স্যামুয়েল। তাই নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং জ্ঞান দিয়ে হোমিওপ্যাথির মতন যুগান্তকারী ওষুধের আবিষ্কার করেন। আসলে এই হোমিওপ্যাথি কি? হোমিওপ্যাথির সাদা বড়িগুলো খেতে তো ভালোই লাগে, কিন্তু সেই বড়িগুলি কিভাবে কাজ করে? হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কি বৈজ্ঞানিক না একেবারেই অবৈজ্ঞানিক। আজ আমরা এইসব বিষয়গুলি নিয়েই একটু আলোচনা করে দেখবো।

হোমিওপ্যাথির সৃষ্টিঃ বহু বছর ধরে স্যামুয়েল চেষ্টা করেন আধুনিক ওষুধ আবিষ্কার করার জন্য যা কঠিন রোগও সারিয়ে তুলবে। কিন্তু প্রচুর প্রচেষ্টার পরও তিনি সাফল্য লাভ করতে পারছিলেন না। একদিন তিনি সিনকোনা গাছের ছালের অংশ নেন। এই সিনকোনা গাছের ছালে কুইনাইন ড্রাগ থাকে যা ম্যালেরিয়ার মতন রোগকে দূর করে। স্যামুয়েল এই কুইনাইন ড্রাগ দিয়ে ম‍্যালারিয়ার রোগ সম্প্রসারিত করেন। তারপর তিনি বোঝেন যে সিনকোনা গাছের ছাল দিয়ে ম্যালেরিয়ার মতন রোগ সৃষ্টিও করা যায় এবং তা সারানোও যায়। এই যুগান্তকারী থিওরি থেকেই হোমিওপ্যাথির সৃষ্টি। হোমিওপ্যাথির ল বা আইনের মতে “লাইকস কিউর লাইকস”। বাংলায় একটা কথা খুব প্রচলিত -বিষে বিষে বিষক্ষয়। ঠিক এই থিওরিতেই হোমিওপ্যাথির পথ চলা।

শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করেঃ আমাদের শরীরে কোনো রোগ আক্রমণ করলে হোমিওপ্যাথি সেই রোগেরই অনেক দুর্বল কোষ আমাদের শরীরে সৃষ্টি করে। এই রোগের কোষের সাহায্যে আমাদের শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা আমাদের শরীরকে প্রস্তুত করে তোলে সেই নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। এইভাবে আমাদের শরীর হোমিওপ্যাথির ওষুধের দ্বারা বিভিন্ন রোগ মুক্ত হয়।

বৈজ্ঞানিক উত্তর মেলেনিঃ যদিও হোমিওপ্যাথির ওষুধের জুড়ি মেলা ভার তাহলেও অনেকের মতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অবৈজ্ঞানিক। আসলে বহু গবেষণা পরেও হোমিওপ্যাথির চিকিৎসার পিছনের কারণ যে কি সেটার পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক উত্তর মেলেনি। আসলে বলতে গেলে এখনো জানা যায়নি যে হোমিওপ্যাথি ওষুধ সম্পূর্ন ভাবে রোগ বিনাশ কি করে করে। তাই অনেক চিকিৎসকরা হোমিওপ্যাথির ঔষধি গুনকে গণ্য করেন না। হোমিওপ্যাথি খুব ধীরগতিতে কাজ করে। তাই বেশ কিছু ডাক্তারের মতে আমাদের শরীরের নিজস্ব তৈরি করা নির্দিষ্ট রোগের অ্যান্টিবডিই আমাদের বিভিন্ন রোগের থেকে সারিয়ে তোলে, হোমিওপ্যাথি কোনো কাজই করেনা।

অনেকের মতে হোমিওপ্যাথি একেবারে একটি ভিত্তিহীন বিদ্যাঃ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভেঙ্কটারামন রামকৃষ্ণন এর মতে হোমিওপ্যাথি একেবারে একটি ভিত্তিহীন বিদ্যা। অনেকে হোমিওপ্যাথিকে প্লাসেবো এফেক্টও বলে। যার মানে আসলে হোমিওপ্যাথি ওষুধ শুধু মাত্র রোগীর মন রাখার জন্য প্রদত্ত ওষুধ। কিন্তু বহু বিজ্ঞানী এখন হোমিওপ্যাথির গুনকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি। এখনো প্রচুর পরীক্ষা এবং গবেষণা চলছে হোমিওপ্যাথি নিয়ে। হোমিওপ্যাথির তুলনায় অ্যালোপ্যাথি কিন্তু অবাক করা গতিতে কাজ করে এবং তাড়াতাড়ি রোগের থেকে মুক্তি ঘটায়। সেইখানে কিন্তু হোমিওপ্যাথি অনেকটাই পিছিয়ে। নতুন এবং উন্নত অ্যালোপ্যাথি ওষুধের বাজারকে ধরে নিয়েছে।

এইসব প্রশ্নের মধ্যে রয়ে গেলেও বিশ্বের অনেক নাম করা দেশে হোমিওপ্যাথি রম রমিয়ে চলছে। ভারতেও হোমিওপ্যাথির ওষুধ কিন্তু প্রচুর লোকজনই খান। যদিও পুরোপুরি জানা যায়নি যে হোমিওপ্যাথি আসলে প্লাসেবো ওষুধ কিনা তাও যতক্ষণ আমাদের রোগ সেরে উঠছে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়ে ততক্ষণ হোমিওপ্যাথি খেলে দোষ কি? হোমিওপ্যাথি ওষুধের কোনো সাইড এফেক্ট নেই। কড়া ওষুধ না খেয়ে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের মত নিয়ে কিন্তু ক্রমান্বয়ী হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে সেটা কিন্তু খুবই কার্যকরী। আর খেয়াল রাখতে হবে যে সব সময় যেন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ খাওয়া হয়।








Leave a reply