হিদায়াত আল্লাহর হাতে

|

হিদায়াত শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ পথপ্রদর্শন। সেটি যেমন পথ দেখিয়ে দেওয়ার অর্থে হতে পারে, তেমনি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অর্থেও হতে পারে। তবে কোরআনে বর্ণিত হিদায়াত শব্দের অর্থ নির্ধারণে ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, হিদায়াত অর্থ পথপ্রদর্শন, যে পথ রাসুল ও তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। ইমাম রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) তাঁর ‘মুফরদাতুল কোরআন’ গ্রন্থে হিদায়াত শব্দের খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য মতে হিদায়াত হলো, ‘কাউকে গন্তব্যস্থানের দিকে অনুগ্রহের সঙ্গে পথ প্রদর্শন করা।’ তাই ‘হিদায়াত করা’ প্রকৃত অর্থে একমাত্র আল্লাহ তাআলারই কাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক ও সোজা পথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা : আল আনয়াম, আয়াত : ৩৯)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে, আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করব। (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

আল্লাহ তাআলা মানুষকে হিদায়াতের পথে আহ্বান করার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহ ভোলা মানুষদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়েছেন। নিজ নিজ উম্মতদের হিদায়াতের পথে দাওয়াত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, মহান আল্লাহ যাদের হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেছেন। কারণ হিদায়াত তো একমাত্র আল্লাহরই হাতে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনেন এবং তিনিই ভালো জানেন সৎপথ অনুসরণকারীদের।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৫৬)

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কোনো এক খুতবায় (ভাষণে) বলেছেন, ‘আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে কেউ গুমরাহ করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে গুমরাহ করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর বাণী। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত হলো মুহাম্মদ (সা.) প্রদর্শিত হিদায়াত।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৪৫৬৬)

তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। হিদায়াতের দোয়া করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব মুসলিম উম্মাহকে হিদায়াতের ওপর অটল রেখে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধান মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।








Leave a reply