সোনার দাম এখন আগুন, নতুন খনির সন্ধান এবার

|

বিশ্ববাজারে যখন সোনার দামে আগুন লেগেছে ঠিক এমনই সময়ে নতুন সোনার খনির সন্ধানে তোড়জোড়ও অনেক বেড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ছাড়াও ল্যাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলো নতুন সোনার খনির সন্ধানে হুড়হুড় করে বাড়ছে বিনিয়োগ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার তাণ্ডবে যখন উৎপাদনমুখি বিভিন্ন খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তখন স্বর্ণের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ছে। কারণ, বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণ সব সময়ই নিরাপদ। আর এতেই রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে দাম বাড়ছে স্বর্ণের।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগের কথা মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বর্ণ কিনে মজুদ করছেন। এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে হুড় হুড় করে বাড়তে শুরু করেছে সোনার দাম।

বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরু থেকেই সোনার দাম বাড়তে শুরু করে। গেল বছরের শেষ দিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৪ ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৬৬০ ডলার। এরপর গত কয়েকমাস ধারাবাহিকভাবেই মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বাড়তেই থাকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ায় বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

গেল কয়েক দশকে নতুন আবিষ্কার হওয়া সোনার খনিগুলোর বেশিরভাগকেই বিশেষজ্ঞরা ‘বিশ্বমানের’ বলতে নারাজ।
সাধারণত কোনও খনিতে ৫০ লাখ আউন্স সোনা মজুদ থাকলে সেটিকে ব্যবসা সফল খনিতে পরিণত করা হয। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে অন্তত আড়াই লাখ আউন্স সোনা উৎপাদন করা যায়।

সবশেষ গত ৯ বছর আগে ২০১১ সালে সব রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম উঠেছিল ১ হাজার ৯৪৪ ডলার। ৯ বছর পর এবার আবারও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রতি আউন্স সোনার দাম উঠলো ১ হাজার ৯৭৪ ডলার।
এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসেব দেখাচ্ছে, গত তিন দশক ধরেই নতুন স্বর্ণের খনি আবিষ্কার কমছে। কিন্তু স্বর্ণের দাম বাড়ায় খনি মালিকেরা উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন। এ খাতে বিনিয়োগও বাড়ানো হয়েছে।

সবশেষ গত ৩১ জুলাই আবারও উর্ধ্বমুখি প্রবণতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এসেছে উজ্জ্বল এই ধাতুটি। বিকেল পর্যন্ত বেচাকেনার রেকর্ডে দেখা যায় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছিল ১ হাজার ৯৭৪ ডলারের বেশি। এই দাম উত্থান-পতনের চলমান বাজারে গেল বুধবারের রেকর্ড করা দাম ১ হাজার ৯৬৯ দশমিক ১২ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫ ডলার বেশি।








Leave a reply