সমবয়সী বিয়ের যত সমস্যা

|

সমবয়সী প্রেম বা বিয়ে নতুন কিছু নয়। অনেকেই সঙ্গী হিসেবে সমবয়সী মানুষকে বেছে নেন। তবে এই রকম ক্ষেত্রে অনেকেরই আগে থেকে জানাশোনা থাকে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এমন প্রেমের সূত্রপাত হয়। পরে একটা সময় পরিণয়। অবশ্য এর বাইরে যে সমবয়সী বিয়ে হয় না, এমনটা নয়। সমবয়সী বিয়ের অনেক সুবিধাও রয়েছে। অনেকেই জীবন সঙ্গীকে পেতে চান বন্ধু হিসেবে। ফলে সমবয়সী কাউকে খুঁজেন। আবার এর বাইরে এমন বিয়ের নানা রকম সমস্যাও রয়েছে। কেউ কেউ বলে থাকেন সমবয়সী বিয়ের সুবিধার চেয়ে অসুবিধা ই যেন বেশি। অবশ্য এই দ্বিমত রয়েছে অনেক।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ

একসাথে থাকতে গেলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা লাগে। পরস্পরকে সম্মানের একটা বিষয় থাকে। কিন্তু সমবয়সী দম্পতির ক্ষেত্রে শ্রদ্ধাবোধের জায়গায় একটা ঘাটতি দেখা যায় বলে মনে করেন অনেকে। তাদের মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের একটা ব্যবধান না থাকলে খুব সমস্যা হয়। এতে করে নিজেদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ থাকে না। একে অন্যেকে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখিয়ে থাকেন। অবশ্য সবার ক্ষেত্রে যে এমনটা হয়, তা বলা যাবে না। তবে সম্ভাব্যতার হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরণের সমস্যা হয়ে থাকে।

দাম্পত্য সমস্যা

সমবয়সী বিয়ের ক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে একটা সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের বয়স পঁয়তাল্লিশ এরপর যৌন ক্ষমতা থাকে না। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে তা বলতে গেলে আমৃত্যু। তাই এক্ষেত্রে অনেকেরই পরামর্শ হল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের একটা গ্যাপ থাকা উচিত। এতে করে যৌন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা কম থাকে।

দাম্পত্য কলহ

সমবয়সী বিয়ের ক্ষেত্রে দাম্পত্য কলহ অনেক বেশি হয় বলে জানা যায়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়ে থাকে ছাড় না দেওয়ার প্রবণতা। বয়সে সমান হওয়ার কারণে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চান না। আর এতে করে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকে সবসময়। সংসারে কেউ উত্তেজিত হলে, একজনকে একটু শান্ত হতে হয়। এতে করে কলহ তৈরির সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু দুইজনই একসাথে উত্তেজিত হয়ে পড়লে, তখন শান্ত করার আর কেউ থাকে না। ফলে দাম্পত্য কলহ যেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

বুড়িয়ে যাওয়া

সমবয়সী দম্পতির ক্ষেত্রে স্বামীর আগেই স্ত্রী বুড়িয়ে যায়। নারীদের গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে বেশি। কিন্তু তারা পুরুষের চেয়ে অনেকাংশে আগেই বুড়িয়ে যায়। এতে করে অনেক সময় স্বামীর চেয়ে স্ত্রীকে বুড়া মনে হয়। ফলে অনেক সময় এই বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হয়। তাই অনেকেই সমবয়সী বিয়ের ক্ষেত্রে নিষেধ করে থাকে।

এসবের বাইরেও পারস্পারিক সন্দেহ থেকে শুরু করে নানা অশান্তি তৈরি হয় সমবয়সী দম্পতির মধ্যে। আর এতে করে অনেক সময় দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠে বিরক্তিকর ও হতাশার। এতে করে একদিকে যেমন পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয়। তেমনি সামাজিক গ্লানির বিষয়টিও কাজ করে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে সমবয়সী সঙ্গী বাছাইয়ে অনেকেই নিষেধ করে থাকেন। অবশ্য সমবয়সী দম্পতিদের বেশ কিছু ভালো দিকও রয়েছে। সেইসাথে রয়েছে ভালো উদাহরণ। তবে সেটা সংখ্যায় অল্প বলেই উল্লেখ করেন কেউ কেউ।








Leave a reply